অমর অবিনশ্বর বঙ্গবন্ধু

বিডি২৪ভিউজ ডেস্ক : আজ যখন আমরা ১৫ আগস্টকে পেছন ফিরে দেখি, তখন মনে হয়, মানুষকে ভালোবাসা আর বিশ্বাস করাই বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নিহত হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ। যিনি এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং প্রতিষ্ঠাতা, যার কারণে বাঙালি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছে, পেয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পাসপোর্ট — তাকে এরকম নির্মমভাবে ঘাতকের বুলেটে নিহত হতে হবে, তা কল্পনার অতীত!

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্থপতি। এই বাংলাকে, বাংলার মানুষকে তিনি এতটাই ভালোবেসেছিলেন যে এদেশের কোনো মানুষ তার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করতে পারে, এটা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। তবে এটাও ঠিক, কয়েক জন বিপথগামী আর্মি অফিসারের চক্রান্ত, তাদের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বঙ্গবন্ধুকে মুছে দিতে পারেনি। বাংলার মানুষ তাকে আগে যেমন ভালোবেসেছে আজও তাকে হূদয় দিয়ে ভালোবাসে। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির কাছে চিরস্মরণীয় এক নাম। বাঙালির প্রেরণার নাম। যিনি না থেকেও বাংলার মানুষের হূদয়ে বেঁচে আছেন মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু হয়ে।

আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী। দিবসটি স্মরণে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী উচ্চাভিলাষী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। কী সেই আক্রোশ, যার জন্য একটা পরিবার শুধু নয়, সমগ্র জাতিকেই ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো? বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করাই শুধু উদ্দেশ্য ছিল ঘাতকদের? না কি রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও দেশের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য কাজ করেছে? তাহলে তো এটাকে নিছক বিপথগামী সেনা সদস্যদের আক্রমণ বলা যাবে না। বলতে হবে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত।

এদিকে গবেষক খালেক বিন জয়েনউদদীনের গবেষণায় উঠে এসেছে সেদিন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে খুনি মহিউদ্দিন আহমেদের ছোড়া কামানের গোলায় আশপাশের বেশ কয়েক জন সাধারণ মানুষও শহিদ হয়েছিলেন। এরা হলেন : মোহাম্মদপুর, শেরশাহ সুরী রোডের বাসিন্দা রিজিয়া বেগম, শিশু নাসিমা, রাশেদা বেগম, সাবেরা বেগম, আনোয়ারা বেগম-১, আনোয়ারা বেগম-২, সুফিয়া খাতুন, সয়ফুল বিবি, হাবীবুর রহমান, আবদুল্লাহ, রফিজল, শাহাবুদ্দীন আহমদ, আমিন উদ্দীন আহম্মদ প্রমুখ।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক : জাতীয় শোক দিবসে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক বাণীতে বলেন, আমি শোকাহত চিত্তে জাতির পিতা ও তার পরিবারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সব শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তার নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি ১৫ আগস্টের সব শহিদকে এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। তিনি বলেন, এই হত্যার মধ্য দিয়ে তারা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। আমরা জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করি।

জেপির শোক ও কর্মসূচি : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন। বাণীতে নেতৃদ্বয় বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে এই জঘন্যতম শোকাবহ হত্যাকাণ্ডে যারা শাহাদত বরণ করেছিলেন আমরা তাদের স্মরণ করছি হূদয়ের গভীরতম ভালোবাসায় ও বিনম্র শ্রদ্ধায়। একই সঙ্গে আমরা তাদের সবার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। আসুন আজ সমগ্র জাতি এই হত্যাকাণ্ডের ৪৬তম বার্ষিকীতে নতুন করে শপথ গ্রহণ করি মুজিব আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার। এবারের জাতীয় শোক দিবসে আমরা আরো শপথ গ্রহণ করব গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার, দুর্নীতি নির্মূল, জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা ও সামাজিক ন্যায়বিচার কায়েম এবং সম্পদের সুষম বণ্টন, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা নির্মূলের।

দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ সকাল সাড়ে ৬টায় জেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, সকাল সাড়ে ৯টায় বনানী কবরস্থানে বেগম মুজিবসহ ১৫ আগস্ট নিহত সব শহিদের সমাধি এবং সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার মাজারে জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হবে। পাশাপাশি বাদ জোহর সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত হবে।

অমর অবিনশ্বর বঙ্গবন্ধুবঙ্গবন্ধু
Comments (0)
Add Comment