তথ্যে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার তথ্য কমিশন এসডিজি ১৬.১০.২ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে

বিডি২৪ভিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ এনজিওস ফর নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে তথ্য কমিশনের যৌথ উদ্যোগে কমিশনের সম্মেলন কক্ষে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় কানেকটিং এন্ড এমপাওয়ারিং জাস্ট, ইনক্লুসিভ এবং পিসফুল সোসাইটি প্রকল্পের জন্য আওতায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনার বিষয় ছিলো এসডিজি ১৬:১০:২ বাস্তবায়ন, বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় এবং ন্যাশনাল ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ ও এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদনে এই কার্যক্রমকে কিভাবে আরো দৃশ্যমান করা যায়।

কাউকে পিছনে না ফেলে রাখার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বাংলাদেশ এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২০ প্রস্তুত করে এবং এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং আরও কত প্রচেষ্টার প্রয়োজন তা তুলে ধরেছে। এজেন্ডা ২০৩০ বাত্তবায়নের প্রথম চার বছরে অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করার জন্য এবং অগ্রাধিকার এবং এর সাথে সামঞ্জস্য করার জন্য ২০২০ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। বাংলাদেশের জন্য, এটি জরুুর একটি বিষয় এবং সমস্ত অংশীজনদের কাছ থেকে স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে আপডেট বা নতুন প্রতিশ্রুতিগুলিকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন এবং এর ভিত্তিতেই সব লক্ষ্য এবং এজেন্ডা ২০৩০ অর্জন করতে হবে।

তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬.১০.২ অর্জন জোরালোকরণ এবং এসডিজি প্রোগ্রেস রিপোর্ট, ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউয় (ভিএনআর)-তে তথ্য কমিশনের ভ‚মিকাকে আরো দৃশ্যমান করা

এই আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার জনাব মরতুজা আহমদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনার জনাব সুরাইয়া বেগম, এনডিসি এবং ড. আব্দুল মালেক। আলোচনা সভায় তথ্য কমিশনের মোট ৩০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য কমিশনের সচিব জনাব সুদত্ত চাকমা অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং উল্লেখ করেন যে তথ্য কমিশন তথ্য আইন ২০০৯ কার্যকর করার জন্য তথ্য কমিশন নিরলসভাবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে এবং আমাদের সময়মত তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে হবে। তথ্য আইন ২০০৯ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের উপর আমাদের আরো কাজ করতে হবে।

বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব এ এইচ এম বজলুর রহমান এসডিজি-১৬:১০:২, এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং ভিএনআর এর উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন এসডিজি-১৬ বিশেষ করে ১৬.১০.২ বাস্তবায়নে তথ্য কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে সেগুলোকে আরো দৃশ্যমান করা এসডিজি ১৬.১০.২-এ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং রিপোর্ট করার জন্য সক্ষমতা তৈরি করা, ১৬.১০.২ এর উপর পর্যবেক্ষণ এবং রিপোর্টিং সংক্রান্ত বিদ্যমান প্রশিক্ষণ সামগ্রীর পর্যালোচনা, ইন্টারনেট গভর্নেন্স লিটারেসি গ্রোগ্রামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ইনফরমেশন লিটারেসি কার্যক্রম শুরু করা।

জনাব রেহান উদ্দিন আহমেদ রাজু ইউনেস্কোর তথ্যে জনগণের প্রবেশাধিকার বিষয়ক সমীক্ষার প্রশ্নমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
জনাব জে আর শাহরিয়ার পরিচালক (প্রশাসন), অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন, তথ্য কমিশন একটি প্রক্রিয়ার সাথে গুণগত এবং পরিমাণগত তথ্যের উপর জোর দেন এবং কার্যকর তথ্য প্রদান ও তথ্য প্রাপ্তির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিশেষ অতিথি তথ্য কমিশনার ড. আবদুল মালেক তাঁর বক্তব্যে ভিএনআর ও প্রোগ্রেস রিপোর্টে সঠিক ও মানসম্পন্ন তথ্য প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি মিসেস সুরাইয়া বেগম এনডিসি বলেন, আমাদের ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায় থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং সেভাবেই তথ্যগুলোকে তুলে ধরতে হবে।

প্রধান অতিথি জনাব মরতুজা আহমেদ, প্রধান তথ্য কমিশনার উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়ন করেছে এবং তথ্য কমিশন গঠন করেছে কিন্তু অনেক দেশে কোনো তথ্য অধিকার আইন ও কমিশন নেই। তথ্য সাক্ষরতা, ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং বিভ্রান্তি প্রতিরোধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেট গভর্নেন্স সাক্ষরতা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তথ্য সাক্ষরতা এবং ইন্টারনেট গভর্নেন্স সাক্ষরতার ক্ষেত্রে আইসিটি বিভাগ এবং বিএনএনআরসি-র সহযোগিতায় তথ্য কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি ইউনেস্কোর সমীক্ষা ও প্রশ্নমালাগুলো অনুযায়ী ২০২১ সালের সকল তথ্য প্রদান করে প্রতিবেদন জমা দানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভিএনআর এর তথ্য সংগ্রহের করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধি জনাব মোহাম্মদ নাদিম রহমান, ন্যাশনাল গ্রোগ্রাম অফিসার, মাইগ্রেশন এন্ড লোকাল গভর্নেন্স অনলাইনে সভায় সংযুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশ এনজিওস ফর নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন
Comments (0)
Add Comment