পরমাণু শক্তিকে ‘গ্রীন’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের পক্ষে রসাটম মহাপরিচালক

বিডি২৪ভিউজ ডেস্ক : সম্প্রতি (২৪ জানুয়ারী, ২০২২) দুবাইয়ে অনুষ্ঠানরত এক্সপো-২০২০ এ রুশ প্যাভিলিয়নে সমাপ্ত হলো রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রসাটম আয়োজিত ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য যুগান্তকারী প্রযুক্তি’ শীর্ষক থিম ভিত্তিক সপ্তাহ। টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি এবং বর্তমান সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর মোট ১৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হয় পুরো সপ্তাহ জুড়ে।

“নেট-জিরো অর্জনের উপায়ঃ চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবমূখী পদক্ষেপ” শীর্ষক এক সেশনে বক্তব্য প্রদানকালে রসাটম মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ পরমাণু শক্তিকে ‘গ্রীন’ হিসেবে শ্রেনীবিন্যাস করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন যে অনেক দেশই বর্তমানে ‘গ্রীন’ প্রবিধান প্রনয়ন করছে তবে, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে এতদসংক্রান্ত চাহিদাগুলোর সমন্বয় সাধন জরুরী। লিখাচোভ জানান যে গত বছর থেকেই রাশিয়ার পরমাণু শক্তিকে ‘গ্রীন’ হিসেবে দাপ্তরিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।

রসাটমের প্রধান সাস্টেইনিবিলিটি কর্মকর্তা পলিনা লিওন এ প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্বব্যাপী একটি ব্যাপারে মোটামুটিভাবে প্রতিষ্ঠিত ঐক্যমত এই যে পারমাণবিক শক্তি ব্যাতীত বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানীর মতোই পারমাণবিক শক্তি কোনও কার্বন নিঃসরণ করে না। তিনি জানান যে কার্বন নিরেপক্ষতা অর্জনে নিজস্ব দায়বদ্ধতা থেকে রাশিয়া ২০৫০ সাল নাগাদ তার এনার্জী মিক্স-এ পরমাণু শক্তির অবদান বর্তমানের ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।

রসাটোম আয়োজিত সেশনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শীর্ষস্থানীয় ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন সরকার, নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা, বেসরকারী ও বিশেষজ্ঞ সংস্থা, একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং যুবসংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।

বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত প্রদান করেন। বিষয়গুলোর মধ্যে ছিলঃ কার্বণ নিরপেক্ষতা অর্জন এবং জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায়, ক্ষুদ্র মডিউলার রিয়্যাক্টরসহ নতুন পারমাণবিক প্রযুক্তির ভূমিকা, এনার্জী বৈষম্য দূরীকরণ এবং আর্থসামাজিক সমস্যার সমাধান, শিল্পে কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল ব্যাবহারের গুরুত্ব, মানুষের জীবনমান এবং জীবনের স্থায়িত্ব বৃদ্ধিতে পারমাণবিক প্রযুক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা ইত্যাদি।

যারা সেশনগুলোতে উপস্থিত থাকতে পারেন নি, রসাটম ফেসবুক এবং ইউটিউবে ব্রডকাস্টের ব্যাবস্থা করে এবং টুইটারে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পোস্ট করে। অনলাইনে প্রায় ছয় লক্ষ মানুষ সেশনগুলো প্রত্যক্ষ করেন।

 

পরমাণু শক্তিকে ‘গ্রীন’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের পক্ষে রসাটম মহাপরিচালক
Comments (0)
Add Comment