পূর্ব মালয়েশিয়ায় খুলতে যাচ্ছে শ্রমবাজার

বিডি২৪ভিউজ ডেস্ক : পূর্ব মালয়েশিয়ার সাবাহ সারওয়াকে খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নতুন শ্রমবাজার। এখানে প্লানটেশনসহ অন্যান্য সেক্টরে অনেক শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই শ্রমবাজার ঘিরে কোনো সিন্ডিকেট তৈরি হয়নি। তবে ব্যক্তি উদ্যগে বেশকিছু দিন ধরে চাহিদাপত্র, হাইকমিশনের সত্যায়ন, কলিং ভিসা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতি নেয়ার কার্যক্রম চলছে অনেকটা নীরবে। বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র হওয়ার পর সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর পূর্ব মালয়েশিয়ার উদ্দেশে কর্মী নিয়ে প্রথম ফ্লাইট ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার ফকিরাপুল এলাকার একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী (নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক) গতকাল নয়া দিগন্তকে টেলিফোনে বলেন, পূর্ব মালয়েশিয়ার সাবাহ সারাওয়াকের একটি নামীদামি কোম্পানি থেকে ১০০ কর্মীর নামে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনে সত্যায়নের জন্য জমা দিয়েছিলাম। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সাবাহ সারাওয়াক প্রদেশ সরেজমিন পরিদর্শন করে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়ার পর কর্মীদের নামে সত্যায়ন দেয়া হয়। বিদেশগামী কর্মী বাছাইয়ের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে নিয়োগানুমতিও দেয়া হয়েছে আমার প্রতিষ্ঠানকে। তিনি বলেন ১০০ কর্মীর নামে কলিং ভিসাও চলে এসেছে। এখন বহির্গমন ছাড়পত্র হয়ে গেলে আশা করছি ঈদের পরপরই এসব শ্রমিকদের ফ্লাইট দিবো।
এক প্রশ্নের জবাবে ব্যক্তি উদ্যোগে খুলতে যাওয়া নতুন শ্রমবাজার সাবা সারওয়াকে প্লানটেশন, কন্সট্রাকশন, কিছু কোম্পানিতে অনেক কর্মী যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমওইউর চুক্তি অনুযায়ী বেতন ১৫০০ রিংগিট, সাথে ওভারটাইম রয়েছে। সাবাহ ও সারওয়াক এই দুই প্রদেশের রাজধানী হচ্ছে সারওয়াক। ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর অথবা পশ্চিম মালয়েশিয়া দিয়ে আকাশপথে আড়াই ঘণ্টায় যাওয়া যায়।

ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা যায় সাবাহ এলাকা হচ্ছে বোর্নিও দ্বীপের উত্তর অংশ মিলিয়ে একটি মালয়েশিয়ান রাষ্ট্র। এটি ৪ হাজার ৯৫ মিটার লম্বা মাউন্ট কোটা কিনাবালু, দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের জন্য বিখ্যাত, যা স্বতন্ত্র গ্রানাইট স্পায়ার দ্বারা মুকুটযুক্ত। সাবাহ তার সৈকত, রেইনফরেস্ট, প্রবাল প্রাচীর ও অনেক বন্যপ্রাণীর জন্যও পরিচিত। এর বেশির ভাগই পার্ক ে রিজার্ভের মধ্যে। জনসংখ্যা ৩. ৫৪ মিলিয়ন।

অপর দিকে সাবাহ ও সারাওয়াক, লাবুয়ানের ফেডারেল অঞ্চল। পূর্ব মালয়েশিয়া এবং এর প্রধান শহরগুলো দেখানো বোর্নিওর একটি মানচিত্র।

এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গাজী মো: শাহেদ আনোয়ার স্বাক্ষরিত নিয়োগ অনুমতি প্রদান করা হয় ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট। ওই নিয়োগ অনুমতিতে উল্লেখ করা হয়, রিক্রুটিং এজেন্সির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সারওয়াক প্রদেশের একটি কোম্পানিতে জেনারেল ওয়াকারস অ্যান্ড হারভেস্টার পদে ১০০ জন কর্মীর নিয়োগ অনুমতি শর্ত সাপেক্ষে প্রদান করা হলো।

শর্তে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অবশ্যই উভয় দেশের বিধিবদ্ধ আইন অনুসরণ করতে হবে।
শর্তে বলা হয়, কোম্পানির প্লানটেশন সাইট সম্পর্কে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানির প্লানটেশন সাইটটির অবস্থান সারওয়াক রাজ্যর বিনটুলু বিমানবন্দর থেকে ১৫০ কিমি. দূরে। প্লানটেশন সাইটে যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত দুর্গম। জংগলের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে যেতে হয়। সেখানে যাওয়ার জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেই। আশপাশে কোনো শহর নেই। বিদ্যুৎ থাকলেও বাগান এলাকায় কোনো নেটওয়ার্ক নাই। রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মস্থলের চ্যালেঞ্জগুলো অবহিত করতে হবে এবং বিএমইটি বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ অনুমতিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে সাড়ে ৪ লাখ কর্মীর নামে কোটা দেয়া হলেও এখনো ৬০-৭০ হাজার শ্রমিক দেশটিতে যেতে পারছে না। মালয়েশিয়াতে যারা ইতোমধ্য গেছে তাদের মধ্য অনেক শ্রমিক কাজ বেতন না পেয়ে এখন দিশেহারা। এসব বিষয় জানার পর মালয়েশিয়া সরকার বিদেশী শ্রমিক আমদানিতে অনীহা দেখাচ্ছে। এর ফলে গত ৩১ মার্চ থেকে নতুন করে কলিং ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর মধ্যে যাদের কলিং সম্পন্ন হয়েছে তাদের (কর্মী) ৩১ মে-এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় পৌঁছতে হ

মালয়েশিয়া
Comments (0)
Add Comment