ইবি ইইই এলামনাই কমিটি বাতিল চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

0
ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইন্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের এলামনাই কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিটি গঠনের পর থেকে এলামনাইদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একপক্ষ কমিটি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও অপরপক্ষ এ কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একপক্ষ অপরপক্ষকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করছেন। কমিটিতে পদপ্রাপ্ত একজন নাম প্রত্যাহার চেয়ে বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত দিয়েছে। এছাড়া এলামনাই নির্বাচন কমিশন, খসড়া গঠনতন্ত্র ও এর মাধ্যমে নবগঠিত কমিটি গঠনের বৈধতা জানতে চেয়ে বিভাগীয় সভাপতি ও নির্বাচন কমিশন সদস্যদের কাছে একাধিক লিখিত আবেদন দিয়েছেন তারা। সর্বশেষ কমিটি নবগঠিত এ কমিটি বাতিল চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।
নবগঠিত এ এলামনাই কমিটির বিতর্ক ও সমসাময়িক ঘটনা প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের নিয়ে অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কমিটি বয়কটকৃত পক্ষের এলামনাইরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইইই বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ( শিক্ষাবর্ষ ১৯৯৬-৯৭) জগলুল পাশা, মোকাদ্দেস হানিফ টলিন, শামিমা সুলতানা সাগরিকা (শিক্ষাবর্ষ ১৯৯৮-৯৯), ফাতেমা খাতুন (শিক্ষাবর্ষ ১৯৯৯-২০০০), বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন খান, (শিক্ষাবর্ষ ১৯৯৬-১৯৯৭), অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম ও
অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাসুদ (শিক্ষাবর্ষ ১৯৯৯-২০০০)। ইইই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, সানজিদ সিয়াম, এম আর কে রাজন, জাহিদ ও হাকিম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ইবি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম এবং সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহেদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তাজমুল হক জায়িমসহ প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এসময় উপস্থিত এলামনাইরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইইই বিভাগের ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষের শামিমা সুলতানা সাগরিকা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৮ ও ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সিলভার জুবিলী ও প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে সাধারণ এলামনাইকে অন্ধকারে রেখে একটি পুর্নাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটির ঘোষণা আসে। অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত কারণে ইইই বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী জগলুল পাশা তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং উক্ত ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বর্তমানে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন খান তার প্রদেয় পদ প্রত্যাখ্যানসহ এলামনাই কমিটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দ্বিমত পোষন করে কমিটি স্থগিত করার আহ্বান জানান।
ইইই বিভাগের সাধারণ এলামনাই মনে করে যে, ওইদিন কতিপয় এলামনাইয়ের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পন্থায় পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র, নির্বাচন কমিশন ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হলেও সে বিষয়ে কোন এলামনাই পূর্বে কিছু জানতেন বলে জানা যায়নি।এসকল বিষয় উল্লেখ করে এবং গঠিত এলামনাইয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জগলুল পাশা স্বাক্ষরিত একটি পত্র লিখিত বক্তব্য আকারে বিভাগীয় প্রধান বরাবর প্রদান করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, উক্ত অনুষ্ঠানে গঠিত কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে ইইই বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী মোকাদ্দেস হানিফ টলিনকে একটি পদ প্রদান করা হলেও উক্ত সাধারণ সভায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন এবং এ নির্বাচনের বিষয়েও তাকে অবগত  করেননি আয়োজকবৃন্দ। উক্ত পরিস্থিতিতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়ে বিভাগীয় প্রধান বরাবর তার পদ প্রত্যাহার পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করলেও কোন সাড়া মেলেনি। একইসঙ্গে গঠিত কমিটিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বিভাগের কর্তব্যরত শিক্ষকগন আসীন হওয়ায় উক্ত নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয় বলে বিবেচিত। এতে করে এলামনাইয়ের কার্যক্রম অগ্রায়নে মুক্ত আলোচনার পথ রুদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করে বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন একটি পত্র প্রেরন করেন এবং আগাম সমস্যা মোকাবিলায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। সর্বোপরি বক্তব্যের আলোকে সাধারণ এলামনাই এর পক্ষ থেকে বিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আসুন সকলের সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে কর্মোপযোগী কমিটি গঠন করে সামনের দিকে অগ্রসর হই।
এ বিষয়ে বর্তমান এলামনাই কমিটির সভাপতি ইইই বিভাগের প্রথম ব্যাচের (১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ও বর্তমানে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, যারা কমিটি নিয়ে সন্তুষ্ট না তারা বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলার চেষ্টা করছে৷ অফিসিয়ালি তারা কোনো কিছু আমাদেরকে বলেনি৷ এ বিষয়ে আমাদের কমিটির কাছে কোনো আবেদন আসেনি। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের দিন উপস্থিত সকল এলামনাইদের মতামতের উপর ভিত্তি করে এ কমিটি গঠন করা হয়। এখন যারা বিরোধিতা করছে তাদের অনেকেই কমিটি গঠনের সময় উপস্থিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এসে তারা কেন এসব করছে তা আমার বোধগম্য নয়। আর তাদের লিখিত দেওয়ার বিষয়ে আমাদের বিভাগের সভাপতি ভালো বলতে পারবে।’
ইইই বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের একাডেমিক কমিটিতে আলোচনা হয়েছে৷ ঈদের পরে আমরা তাদেরকে নিয়ে বসবো৷ তখন বিষয়টি সমাধানে আলোচনা হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.