চামড়া কিনতে ব্যাবসায়ীরা ৫৮৩ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছেন

0

বিডি২৪ভিউজ ডেস্ক : আসন্ন ঈদ উল আযহা উপলক্ষে কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য ব্যবসায়ীদের ৫৮৩ কোটি টাকা ঋন দিবে ব্যাংকগুলো। স্বল্পমেয়াদি এ ঋণ বিতরণ করবে সরকারি ৫ ব্যাংক ও বেসরকারি ৩ ব্যাংক। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদ উল আযহা উপলক্ষে কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য ঋণ বাবদ ব্যবসায়ীদের জন্য এবারও বরাদ্দ রাখা হয়। কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে এবার রুপালি ব্যাংক ঋণ দিবে ২২৭ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ১৪০ কোটি , অগ্রণী ব্যাংক ১২০ কোটি, সোনালি ব্যাংক ২৫ কোটি ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ২ কোটি ৫০ লাখ ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অপরদিকে, কুরবানির পশুর চামড়া ক্রয়ের জন্য ব্যাবসায়ীদের এবছর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামি ব্যাংক ৬৭ কোটি, আল-আরাফাহ ইসলামি ১ কোটি ৯ লাখ, ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক ৫০ লাখ ও সিটি ব্যাংক ২০ লাখ টাকার ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবছর ব্যাংকগুলো কুরবানির পশুর চামড়া কেনার জন্য ঋণ দেয়ার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করলেও ব্যাংকের ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত কাগজে কলমেই থেকে যায়। এ খাতে ঋণ আদায় কমে যাওয়ায় ঋণ বিতরণ কমে দিয়েছে ব্যাংকগুলো।

চামড়া খাতের ঋণ বিতরণের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গেল বছরে (২০২০ সালে ঈদ উল আযহা উপলক্ষে) কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য ৬৪৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিলেও বিতরণ করেছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে রাষ্ট্রয়াত্ত জনতা ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার বিপরীতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ শুন্য । অপরদিকে, অগ্রণী ব্যাংক ১৮০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে বরাদ্দ রাখলেও বিতরণ করেছে মাত্র ২০ কোটি টাকা, একইভাবে রুপালি ব্যাংক ১৫৫ কোটি টাকা লক্ষমাত্রার বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ১১ কোটি, সোনালি ব্যাংক ব্যাংক ৭১ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করেছে ৭১ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের ইসলামি ব্যাংক ৫০ কোটি টাকার বিপরীতের কাচা চামড়া ক্রয়ে বিতরণ করেছে মাত্র ১২ কোটি আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক ৮০ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করেছে মাত্র ১ কোটি টাকা।

চামড়া খাতে ঋণ বিতরণ কম কেন জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস উল ইসলাম বলেন, চামড়া শিল্পে সেন্ট্রাল ইটিপি না হওয়ার কারণে রপ্তানিতে ধাক্কা লাগে। চামড়া নীতিালা অনুযায়ী ঋণ নিয়ে গতবার যারা যতটাকা সমন্বয় করেছে ঠিক তত টাকাই ঋণ পাবে। কেউ পুরো টাকা পরিশোধ করলে পুরো অর্থ, অর্ধেক করলে অর্ধেক পরিমাণে ঋণ পাবে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, চামড়া কেনার ঋণ মূলত এক বছরের জন্য পাওয়া যায়। যারা গত বছরের টাকা পরিশোধ করেছে তারাই ঋণ পায়। ব্যবসায়িদের অভিযোগ, গত ২০১৭ সালের পর থেকে চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। যার দরুন অনেক ব্যবসায়ী খেলাপির তালিকায় পরেছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সাভারে টেনারি শিল্প স্থানান্তর। অন্যদিকে গত কয়েক বছরে চামড়া শিল্পে যাদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে তাদের বেশির ভাগের ঋণই ঋণ পুন:তফসিল করা হচ্ছে। তাই এ খাতের ব্যবসায়ীরা এখনো ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছেনা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ব্যাংকগুলো চামড়া শিল্পে ব্যাবসায়ীদের ঋণ দেওয়ার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করলেও কাগজে কলমেই সিমাবদ্ধ থাকে। চামড়া মালিকরা আশানুরুপ ঋণ পাচ্ছেনা। ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ ঋণ দেয় তা বিগত বছরের ঋণের সাথে সমন্বয় করে (ঋণ পুন:তফসিল করে)। এতে গত কয়েক বছর যাবৎ চামড়া শিল্প মালিকদের হাতে এ খাতের ঋণের টাকা আসেনা। ২০১৭ সালের আগে কিন্তু এ খাতের অধিকাংশ ব্যাবসায়ীরা খেলাপি ছিলনা। সাভারে চামড়া শিল্পে হস্তান্তর করে উৎপাদনে যাওয়ার মত সক্ষমতা অনেক ব্যবসায়ীদের ছিলনা। তাই গত সরকারের কাছে আমাদের দাবি বিগত ২ বছরের (২০১৭-১৯) ঋণের সুদ যেন মওকুফ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এবারের কুরবানির চামড়া কিনতে ব্যাংকগুলো কম পরিমাণে ঋণ দিলেও নতুন করে যেন এ ঋণ বিতরণ করে। আগের বকেয়া ঋণের সাথে সমন্বয় যেন না করা হয়। এমন সুবিধা সরকারের পক্ষ থেকে যেন ব্যাংকগুলোকে বলা হয়।

আপনি এগুলোও দেখতে পারেন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.