বাংলাদেশের সঙ্গে কারেন্সি সোয়াপ বাণিজ্য চায় ইরান

0

বিডি২৪ভিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের সঙ্গে ডলারের বিকল্প মুদ্রায় কারেন্সি সোয়াপ প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য করতে চায় ইরান। এ জন্য দেশটি তার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব লেনদেন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই লেনদেন প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সুইফট সিস্টেমের বাইরে ডলারের বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন করতে ১৩টা দেশের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ইরানের। দেশটি চাইছে বাংলাদেশকেও সেই লেনদেন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে। দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী মাসের শেষের দিকে ইরান এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে। ওই এক্সপোতেও অংশ নিতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরান।

দেশটি বলেছে, এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ব্যয় হবে না। সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে ইরান সরকার। বাংলাদেশ থেকে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলকেও ওই এক্সপোতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ওই সময় এই কারেন্সি সোয়াপ প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের চুক্তি হতে পারে। জানা গেছে, গত ৪ ও ৫ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত ডি-এইট সম্মেলনের মাঝে ইরানের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে ওই সাইডলাইন বৈঠকে ইরানের সরকারি প্রতিনিধি দল এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটো গতকাল সন্ধ্যায় ফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশন আছে। স্যাংশনের বাইরে থাকা পণ্যের বাণিজ্যে আমাদের আপত্তি নেই। দেশটি বাংলাদেশে, তরল জ্বালানি, পেট্রোলিয়াম পদার্থ, মিনারেল, বাদাম, আখরোটসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করতে চায়। আমরাও বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চা, ওষুধ ও সিরামিকসহ অন্যান্য পণ্য আরও বেশি হারে আমদানি করতে ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছি। কারেন্সি সোয়াপ সম্পর্কে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডলারের বিকল্প মুদ্রায় লেনদেনের জন্য ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ১৩টি দেশ যুক্ত আছে। এখন বাংলাদেশকেও তারা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে চাইছে। এক্ষেত্রে এলসির বাইরে কারেন্সি সোয়াপ প্রক্রিয়ায় লেনদেন হতে পারে। তিনি বলেন, আগে ইরানের কার্পেট তৈরি করতে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পাট আমদানি করত তারা। আমরা এসব পণ্য রপ্তানি বাড়াতে চাই। আমরা পাট, চা ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি করে দেশটি থেকে যে রিয়াল আয় করব, সেই রিয়াল দিয়েই বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বেশি হলে, ডলারের বাইরে অন্য যে মুদ্রা আমাদের রিজার্ভে বেশি থাকবে-তা দিয়ে পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ ও ইরান ওআইসির সদস্য। আবার উভয় দেশেই ডি-৮-এর অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০০৬ সালে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি ২০২২ সালে দুই দেশ দ্বৈত শুল্ক পরিহারেও চুক্তি সই করে। তবে সেই শুল্ক পরিহার চুক্তিটি এখনো অনুসমর্থন করেনি ইরান। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের অনকূলে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৮ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই বছর বাংলাদেশ দেশটিতে ১৮ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। দেশটি থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.