বান্দরবানে সেনাপ্রধান সন্ত্রাসীরা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান

0

বিডি২৪ভিউজ ডেস্ক : সেনাবাহিনী প্রধান এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বান্দরবানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার ও এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার ও দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

 

তিনি বলেন, শান্তি আলোচনা শুরুর পর তাদের (কেএনএফ) বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু সন্ত্রাসীরা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। সুতরাং তাদের আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। ইনশাআল্লাহ জনগণের মধ্যে শান্তি ফিরে আসবে। সন্ত্রাসীদের জায়গা বাংলাদেশে নেই।

রোববার দুপুরে বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলা পরিদর্শন শেষে বান্দরবান সেনা রিজিয়ন মাঠে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে সকালে হেলিকপ্টারে তিনি বান্দরবান পৌঁছান।

সেনাপ্রধান বলেন, দৃশ্যমান কিছু কার্যক্রম আপনারা দেখতে পাবেন। এর ফল আপনারা সময়মতো পাবেন। আমি আপনাদের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চাই, আমার কাছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা খুবই পরিষ্কার। বাংলাদেশের জনগণের শান্তির জন্য, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যা করণীয়, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ সেটাই করতে হবে। সেটা বাস্তবায়নে আমরা সক্ষম হব বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।

এটা একটা সমন্বিত প্রচেষ্টা। গোয়েন্দারা তাদের জায়গা থেকে যা করণীয় করছে। বিজিবি তাদের কাজ করছে। র‌্যাব-পুলিশের যেটা করণীয় সেটা তারা করছে। সেনাবাহিনীও তাদের করণীয় করছে। সবকিছু আমরা সমন্বয় করছি। এটা কোনো আইসোলেটেড অপারেশন হচ্ছে না। এখানে আমরা গভর্নমেন্ট যেটা চাচ্ছে, সেই স্ট্যাটেজির মধ্যে থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, কেএনএফ’র সব আস্তানা সেনাবাহিনী গত বছর দখল করে নিয়েছিল। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমিয়ে ফেলেছিল। পরে শান্তি কমিটির সঙ্গে কেএনএফ’র স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার শান্তি আলোচনা শুরু হয়। দুটি মুখোমুখি বৈঠকও হয়েছে। তৃতীয় বৈঠকের আগেই তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাল। তিনি বলেন, বমদের সানডে আয়োজনে ৩১ মার্চ রুমায় বেতেলপাড়াসহ সব গির্জায় সেনাবাহিনী কেক পাঠিয়ে উৎসব আয়োজনে সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু ২ এপ্রিল তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাল।

সেনাপ্রধান বলেন, শুরুতে আমরা তাদের (কেএনএফ) বিশ্বাস করেছিলাম যে শান্তি আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তারা দেখতে পারবে যে সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা বাংলাদেশে নাই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা বন্ধে সব ধরনের সক্ষমতা সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে। কিন্তু সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে। কারণ কেএনএফ’র বম জনগোষ্ঠীর সবাই জড়িত নয়। কিছু সংখ্যক বিপথগামী কেএনএফ’র সদস্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বম জনগোষ্ঠী শান্তিপ্রিয়, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। এ সময় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনি এগুলোও দেখতে পারেন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.