গোলেজান বেওয়ার দিন কাটছে জোড়াতালি খুপরি ঘরে

0

মোঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব দিনাজপুর থেকে : চাটি বেড়া, টিনের ছাউনি, অর্ধেক মাটির তৈরি দেয়াল, ফুটো টিন, পলিথিন আর বাঁশের জোড়াতালি দেওয়া দরজা। দেখে মনে হবে কোনো হতদরিদ্র পরিবারের রসুইঘর বা গোয়ালঘর। কিন্তু না, কাছে গিয়ে বুঝতে পারবেন, এখানেই কোনোরকমে নিদারুণ কষ্টে বসবাস করে দিন পার করেন গোলজান বেওয়া (৬৫)।

‘দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না’, এমন প্রতিশ্রুতির আলোকে মুজিববর্ষে সম্প্রতি কয়েক ধাপে হাজার হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ পাকা ঘর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এসব ভাগ্যবানদের কাতারে নাম নেই গোলজান বেওয়ার।

দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের উত্তর পাড়ায় বসবাস গোলজান বেওয়ার। সরেজমিনে গেলে গোলজান বেওয়া বলেন, খুব কষ্ট করি খুপরিটার ভিতর থাকো। পানি পড়ে, ঝড়-বাতাস হইলে ভয় নাগে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ে। খুব কষ্ট করি থাকো বা। দেখার কাহ নাই। তিনটা বেটা মোর দেখাশুনা করে না। বেটাদের দিন চলে না। তারা দিন আনি দিন খায়। হামরা গরিব মানুষ, তাও চেয়ারম্যান-মেম্বাররা হামাক কিছুই দেয় না। সারাদিন মানুষের কাছত চায়-খুঁজি খাই। সরকার যদি মোক একটা নাল টিনআলা বাড়ি গিলা দেইল হায়, তাইলে মুই ভালো করি বাকি জীবনটা কাটানু হায়।

প্রতিবেশী রাহেনা বেগম বিডি২৪ভিউজ কে বলেন, গোলজান বেওয়ার ছেলেরা তাকে দেখাশোনা করে না। খবার নেয়ার মতন মানুষ নেই তার। নিজে ভিক্ষা করে চায়া-খুঁজি খায় মানুষের কাছ থেকে। সরকার যদি গোলজান বুবুকে একটা বাড়ি-ঘর করি দেয়, তাহলে এই বয়সে তাকে কষ্ট করে থাকতে হবে না।

উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নরেন্দ্র নাথ রায় বিডি২৪ভিউজ কে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব বর্ষে সম্প্রতি যে বাড়িগুলো দিয়েছেন, তা হলো, যাদের সরকারি জমির ওপর বাড়ি ছিল, তাদের পুরোনো ঘর ভেঙে লাল টিনের ছাউনির বাড়িগুলো উপহার দেওয়া হয়েছে। এমন নির্দেশনাও দেওয়া ছিল ওপর থেকে। কিন্তু গোলজান বেওয়ার সরকারি জমির ওপর বাড়ি না থাকায় তাকে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বিডি২৪ভিউজ কে বলেন, আমার হাতে এখন ঘরের বরাদ্দ নেই। আমাকে ভোটার আইডি ও ছবি জমা দিলে পরবর্তী সময়ে ঘরের বরাদ্দ এলে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.