কুড়িগ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের নামে কোটি টাকা লুটপাট

0

আল এনায়েত করিম রনি,কুড়িগ্রাম থেকে: কুড়িগ্রামে ৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন সংস্কার কাজের প্রায় কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয়ে এ টাকা লুটপাট করা হয়। উলিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অধিদপ্তর থেকে উপজেলার মোট ৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামতকাজের জন্য প্রায় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের জানালা, দরজা, গ্রিল, শৌচাগার মেরামত ও রং-বার্নিশ করানোসহ বিভিন্ন ধরনের হালকা মেরামতের কাজ করানোর কথা।

নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দের সমপরিমাণ টাকা ব্যয় করে আগে কাজ করতে হবে। কাজ শেষ হলে একজন উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত সাপেক্ষে ছাড়পত্র নিতে হবে। সেই ছাড়পত্র দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে ২০২০ সালের মধ্যেই মেরামতের টাকা তুলতে হবে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেরামতের নামে শুধু বিদ্যালয়গুলোর সামনের কিছু অংশ লেপে দিয়ে পুরো বরাদ্দের টাকাই তুলে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সদ্য বিদায়ি মোজাম্মেলহক শাহ্ বিদ্যালয়ের, প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতির যোগসাজশে এ দুর্নীতি হয়েছে বলে জানা যায়।

গত শনি ও রোববার রামদাস ধনিরাম সপ্রাবি, গুনাইগাছ কেবি সপ্রাবি, পোড়ারচর সপ্রাবি, মেকুরের আলগা সপ্রাবি কল্যাপাড়া সপ্রাবি, চর রামনিয়াসা সঃপ্রাঃবিঃ সহ একাধিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, লুটপাট ধরা পড়ার ভয়ে মানুষের চোখকে ফাঁকি দিতে বিদ্যালয় ভবনের সামনের অংশে দায়সারা চুনকাম করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা এখনো ভাঙা। এসব বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিরা অধিকাংশই অশিক্ষিত ও স্ব-শিক্ষিত হওয়ায় ও স্থানীয় প্রভাবশালি হওয়ার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে সাহস পাননি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসি ও শিক্ষকেরা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকেরা বদলি ও শাস্তির ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তারপরও নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, বরাদ্দের শতকরা ৪০ শতাংশ টাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিতে হয়েছে। এ ছাড়া ছাড়পত্র নিতে উপজেলা প্রকৌশলীদেরও দিতে হয়েছে। পরিচালনা কমিটির সভাপতিও আছেন। সবাইকে ভাগ দিয়ে আর টাকাই থাকে না। কাজ হবে কী দিয়ে। তাঁরা আরও বলেন, শিক্ষকেরা এ টাকার কোনো ভাগই পাননি। অনেকে বরাদ্দের বিষয়ে কিছু জানেনও না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদিরুজ্জামান, বলেন আমি গত কয়েকদিন আগে এ উপজেলায় যোগদান করেছি মাত্র এ বিষয়ে আমি এখনও অবগত নই, সদ্য বিদায়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেলহক শাহ্ জানান ‘বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ এখনও চলছে আমি কর্মরত অবস্থায় ৭৪ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব নম্বরে অর্ধেক করে টাকার ছাড়করণ করে দিয়েছি। বাকি টাকা তদারকি শেষে পুরোপুরি বুঝে নিয়ে ছাড়পত্র দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়।

তাঁদের ছাড়পত্র দেখেই বিল পরিশোধ করা হবে। এখানে আমার টাকা তছরুপের কোনো সুযোগ ছিল না। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিক্তিতে রামদাস ধনিরাম প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ পাঁচ-সাতটি বিদ্যালয় তদন্ত করে লুটপাটের সত্যতা পেয়েছি। এ ছাড়াও অনেক বিদ্যালয় ৫০ ভাগ কাজও হয়নি বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান আমি সদ্য এ উপজেলায় যোগদান করেছি, বিষয়টি আমার জানা নেই এটি উপজেলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের একান্তই ব্যাপার এবং তদারকি তারাই করে থাকেন, বিষয়টি আমি দেখবো। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাদিরুজ্জামানকে একাধীকবার ফোন করেও মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.