আশ্বাস না, লিখিত প্রজ্ঞাপন চান , পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
পাবনা প্রতিনিধি : টানা ৪৮ ঘন্টা তালা বন্ধের পর “প্রিন্সিপালের” সাথে আলোচনায় বসে পাবনা টেক্সটাইল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছে (প্রিন্সিপালের অনুপস্থিতিতে) ১৭ জুলাই তাদের দবিগুলো উপস্থাপন করে ।
আজ শনিবার (১৯ জুলাই) অধ্যক্ষ মো: বখতিয়ার হোসেন, জানান ছাত্রদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক আমরাও এর সমাধান চাই। কিন্তু ছাত্ররা যেই দাবিগুলো করছে সেগুলো সমাধানের ক্ষমতা আমার হাতে নেই এগুলো সমাধান করার ক্ষমতা আছে “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন” আর “পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের” কাছে। তিনি , আরো ৮টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চলমান আছে সব কলেজেরই সমস্যা এগুলো ।
শুধু “পিটেক” আন্দোলন করলে সেটা হালকা হয়ে যায়। অধ্যক্ষ বলেন, রেজাল্ট প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের যে সমস্যাটি আছে , এই বিষয়ে আমি “বুটেক্সে”একটি প্রস্তাব দিয়েছেন সেটা “টেবিলে”আছে।
“সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার” বিষয়ে বলেন, ২০দিন হল বুটেক্সে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন । বুটেক্সে ইতোমধ্যেই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা চালু হয়েছে। যেহেতু সকল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ “বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়” এর নিয়মে চলে। তাই আমাদের এখানে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা চালু না হওয়াটা অযৌক্ত বলে আমি মনে করি। এসব বলতে গিয়ে তিনি “বুটেক্সের সক্ষমতা” নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে পুনরায় ব্যাখ্যাসহ “দাবিগুলো উপস্থাপন”করতে বলেন এবং “লিখিত আকারে” স্যারকে প্রদান করতে বলেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে রুহুল আমিন ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করেন ১. সংশোধিত কারিকুলাম বিষয়ক তথ্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নোটিশ আকারে প্রকাশ করতে হবে
২.সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে গ্রেডসহ ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
৩.২০২১ -২০২২ সেশনের লেভেল -২,টাম – ২ও ২০২২-২০২৩ সেশনের লেভেল -১,টাম -২ ফলাফল পুনরায় গ্রেডসহ প্রকাশ করতে হবে
৪.সেমিস্টার ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে
৫.সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা চালু ও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৬ . ২০২১-২০২২ও ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ইয়ার ড্রপের নির্দিষ্ট কারণ ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে।
৭. পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার ১৯ বছরেও শিক্ষক সংকট কাটাতে পারিনি তার লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে, বর্তমান শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রশাসন কি পদক্ষেপ নিয়েছে বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে
৮। কোন নীতিমালা গোপনে পরিবর্তন বা প্রয়োগ করা যাবে না -নতুন নীতিমালা ওয়েবসাইটে নোটিশের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, শিক্ষক বলেন, এই দাবি শুধু এই পিটেকের মধ্যে নেই। সকল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কে একসাথে দবি আদায় এ পদক্ষেপ নিতে বলেন সব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তাজবির হাসান বর্ষণ জানান শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চাইলে, অধ্যক্ষ জানান সংশোধিত নতুন নিয়োগ বিধি পাস না হলে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা লিখিত আকারে মন্ত্রণালায়ে জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না এটা মন্ত্রণালয়ের বিষয় এ ব্যাপারে আমাদের কোন হাত নেই এভাবেই দায় এড়িয়ে যান অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিতে অনুরোধ করেন।” শিক্ষার নামে প্রহসন” চলছে না, চলবে না স্লোগানে মুখোরিতো হয় ক্যাম্পাস। অনেক অনুরোধের পরেও শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিতে রাজি না হলে শিক্ষকরা অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদেরকে তোমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করো । আবার ২য় দফায় শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকরা আলোচনায় বসেতে চাই।
আলোচনায় ২০২১ -২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী উৎপল চন্দ্র ইয়ার ড্রপ এর কারণ কি সে ব্যাপারে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়, কেন ৩ বার পরিক্ষা দিয়েও ইয়ার ড্রপের মরণ ফাঁদে পড়লেন, কেন তাকে ফেলকৃত বিষয়ের নাম জানানো হয়নি, তাকে কেন নতুন ব্যাচ এর সাথে সকল পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে ( যেটা নিয়ম বহির্ভূত) ।
প্রিন্সিপাল প্রশ্নবানে বিধ্বস্ত হয়ে বলেন এটা আমি জানলে অফিসিয়ালি তোমাদের জানাতে পারব না। লিখিত আকারে আমার কাছে অভিযোগ জানাতে হবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে প্রশ্ন করেন একজন ছাত্রের দুইবার বা রেজাল্ট আসে নাই প্রসাশন কেন গুরুত্ব দেয় নি- অধ্যক্ষ বলেন মাঝে মাঝে টুকটাক ভুল হয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা জানান যেখানে রেজিস্টার স্যারের আমাদের প্রত্যেকের আইডি সহ ,নাম মনে থাকে তাহলে কেন আপনারা অবগত ছিলেন না।
দীর্ঘ ৪০ মিনিট বাগ-বিতন্ডার পর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলতে অস্বীকৃতি জানান।শিক্ষার্থীরা জানান যতক্ষণ পর্যন্ত সমাধান, বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হচ্ছে ততক্ষণ শাটডাউন কর্মসূচি চলমান থাকবে।