যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ : খালেদর বিদেশে যাওয়ার অনুমতি ও মামলা প্রত্যাহার চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী

0

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার-কে অবৈধ সরকার’ আখ্যায়িত করে বাংলাদেশে তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন দাবীর পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার্থে অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি প্রদান এবং তাঁর সহ তারেক জিয়ার দায়েরকৃত সকল মামলা বিনাশর্তে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুন:পপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শীঘ্রই জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউজ, ক্যাপিটল হিল এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি পালনের কথাও জানানো হয়। খবর ইউএনএ’র।

দীর্ঘদিন ধরে কমিটি বিহীন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র এই সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন সংগঠনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ। এসময় উপস্থিত মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি মনজুর আহমেদ চৌধুরী, এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ ও গিয়াস উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বাবরউদ্দিন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন, ব্রুকলীন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন গিয়াস আহমেদ, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি ও মনজুর আহমেদ চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, করোনা নিয়ে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের চরম উদাসীনতার খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশের অসহায় মানুষ। এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মাধ্যমেই বাংলাদেশ গণতন্ত্রে ফিরবে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, অসৎ উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা ভোটার আইডি কার্ডের কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করছে, তা বন্ধ করতে হবে। আমাদের দাবি ভোটার আইডি কার্ডের সকল প্রকার কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকতে হবে। এছাড়াও ‘মুজিব শতবর্ষ’র নামে শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে দুঃস্থ অসহায় ও ভূমিহীনদের মাঝে ঘর বিতরণে দুর্নীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘বর্তমান এই অবৈধ সরকারের আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, স্বেচ্ছাচারিতা, দলীয়করণ ও আত্মীয়করণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দেশে আজ মেগা প্রজেক্ট থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের ছোটখাট প্রজেক্টের সব জায়গায় দুর্নীতি আর লুটপাটের মহৌৎসব চলছে। বাংলাদেশ এখন লুটপাটের স্বর্গরাজ্য হিসেবে বহি:বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কোন কমিটি নেই সত্য। আর ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি’র নামে যে কমিটি কেন্দ্র অনুমোদন করেছে সেটি একটি ‘ইভেন্ট কমিটি’। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে আব্দুল লতিফ স¤্রাট ও জিল্লুর রহমান জিল্লু নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর আজ অবধি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কোন কমিটি কেন্দ্র অনুমোদন করেনি। ফলে কমিটি বিহীন বিএনপি’র নামে বিভক্তিতেই চলছে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মঞ্চে নেতৃবৃন্দের আসন-কে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাকির হাওলাদার ও তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’র সভাপতি ও বিএনপি নেতা পারভেজ সাজ্জাদ। পারভেজ সাজ্জাদ অভিযোগ করেন যে, বিএনপির চরম দুর্দিনে যারা মাঠে ছিলেন তাদের দলে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আবার যারা মাঠে ছিলেন না, হঠাৎ করে উদয় হয়ে বিগত কমিটির পদবির অজুহাতে মঞ্চে আসন পাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী বিগত ১৫/১৬ বছরেও ঠাঁই পাননি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সংবাদ সম্মেনে পঠিত বক্তব্যের পূর্ণ বিবরণ আজ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পক্ষ থেকে এমন একটি সময়ের সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করা হয়েছে যখন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ কঠিন দু:সময়ে নিপতিত। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের আক্রমন সমগ্র দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন, হাজার হাজার মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়িতে ব্যস্ত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার প্রত্যাশায়।

বাংলাদেশের অবৈধ সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে প্রথম থেকেই এই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায়। গত বৎসর মার্চের প্রথম সপ্তাহে যখন করোনা ভাইরাসের আক্রমন শুরু হয় তখন শেখ হাসিনা ও অবৈধ সরকার মহা ব্যাস্ত হয়ে উঠেন মুজিব শতবর্ষ উদযাপন ও কসাই নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশে প্রধান অতিথি হিসেবে আনার জন্য। আর প্রচার করতে থাকেন করোনা ভাইরাসের চেয়ে শক্তিশালী এই সরকার ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। সরকারের এমপি মন্ত্রীরা প্রচার চালাতে থাকেন করোনা ভাইরাস বাংলাদেশের জন্য কোন আতংকের বিষয় নয়।

সমগ্র বিশ্ব আজ যখন করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে চিন্তিত এবং সঠিক ও পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ফিরে আসার পথে ঠিক সেই সময় অবৈধ হাসিনা সরকারের পরিকল্পনাহীন ও হটকারী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের জনগণ এখন মৃত্যুর মুখে পতিত।

দেশের যখন এই ভয়াবহ কঠিন অবস্থায় সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে কোভিট ১৯ মোকাবেলা করা প্রয়োজন ছিল, শেখ হাসিনা তা না করে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বাজেট সমাপনী অধিবেশনের বক্তৃতায় অবৈধ সরকারের মিথ্যাবাদী মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্যে প্রদান করেন। স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদাগার করে অশোভন ও অশালীন বক্তব্য প্রদান করে শেখ হাসিনা তার মনের হীনমন্যতা ও সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়েছেন। আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে শেখ হাসিনার মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা ও আইন মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়ে দিতে চাই, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অসত্য মিথ্যাচার ও অশালীন মন্তব্য, বক্তব্য ও বিবৃতি প্রদান থেকে বিরত থাকুন।

(ক) আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েছে মিথ্যা মামলা ও ফরমায়েশী রায় বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করছি। একই সাথে অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করার দাবি জানাচ্ছি।

(খ) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের উপর সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি।
(গ) অবৈধ সরকার কর্তৃক গ্রেফতারকৃত সকল রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের অনতিবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।
(ঘ) অসৎ উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা ভোটার আইডি কার্ডের কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েহস্তান্তর করছে তা বন্ধ করতে হবে। আমাদের দাবি ভোটার আইডি কার্ডের সকল প্রকার কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকতে হবে।
(ঙ) মুজিব শতবর্ষের নামে শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে দুঃস্থ অসহায় ও ভূমিহীনদের মাঝে ঘর বিতরণের দুর্নীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি সাথে জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
বর্তমান এই অবৈধ সরকারের আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, স্বেচ্ছারিতা, দলীয়করণ ও আত্মীয়করণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দেশে আজ মেগা প্রজেক্ট থেকে শুরু করে গ্রাম গঞ্জের ছোট খাট প্রজেক্টের সব জায়গায় দুর্নীতি আর লুটপাটের মহৌৎসব চলছে। বাংলাদেশ এখন লুটপাটের স্বর্গ রাজ্য হিসেবে বহি:বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছে।

আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই আগামীতে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বর্তমান সরকারের সকল দুর্নীতির বিচার করা হবে ইনশাআল্লাহ। গত কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক শ্রমিক কর্মচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। আমরা আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে এই অগ্নিকান্ডের কারণ সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দাবি করছি।

আমরা ব্রিটিশ হাই কমিশনার সহ অন্যান্য বিশ্বের নেতৃবৃন্দের সাথে এক মত যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে গৃহবন্দী এবং জেল জরিমানা করে রাখা হয়েছে। পরিশেষে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং ভোটের অধিকার পুন:প্রতিষ্ঠায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন বিকল্প নাই। অতএব, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবী জানাচ্ছি।

আপনি এগুলোও দেখতে পারেন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.