সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ইন্টারনেট গভর্নেন্স, ডিজিটাল সেইফটি এন্ড সিকিউরিটি, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং যাচাইকরণের কৌশল

0

নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (এনআইএমসি) এবং বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম (বিআইজিএফ) যৌথভাবে এনআইএমসি প্রশিক্ষণ কক্ষে ইন্টারনেট গভর্নেন্স, ডিজিটাল সেইফটি এন্ড সিকিউরিটি, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং ভেরিফিকেশন কৌশল বিষয়ে সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা বিশেষ করে আধুনিক ফ্যাক্ট চেকিংয়ের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন তৈরি করা এবং ইন্টারনেট গভর্নেন্স, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং কিভাবে ডিজিটাল হুমকি থেকে সাংবাদিকদের রক্ষা করা যায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং দক্ষতা অর্জনের জন্য উৎসাহিত করা।

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রকৌশল) জনাব মো. নজরুল ইসলাম, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং উল্লেখ করেন এনআইএমসি সারাদেশে সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে সাংবাদিকগণ কিভাবে ইন্টারনেট এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজ নিজ প্রতিবেদন তৈরি করবে তা নিয়ে ভাবা উচিত। কোভিড-১৯ মহামারি সময় আমরা নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতির সাথে পরিচিত হয়েছি। আমরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছি। ডিজিটাইজেশন আমাদের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে এবং সাংবাদিকতার অনেক নতুন বিষয় জানতে সাহায্য করছে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন আমাদের জন্য প্রথম। আমরা ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণে বিআইজএফ এর সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জনাব শাহিন ইসলাম, এনডিসি, প্রশিক্ষণের গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রেক্ষাপট এবং প্রযুক্তির দ্রæত পরিবর্তনের সাথে নিজেদের অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতায় ফ্যাক্ট-চেকিং এবং ভেরিফিকেশন কৌশল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভুল তথ্যের মোকাবেলার জন্য তথ্য যাচাইকরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নিবিড় পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের আয়োজকের অংশ হতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি। অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমের পাশাপাশি ভুল তথ্য, মিথ্যা তথ্য বা অপতথ্য, প্রতিবেদনে উপস্থাপিত ভুল তথ্য প্রতিরোধের গুরুত্ব এবং কৌশল সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবার সুযোগ আছে। ভুল তথ্য, মিথ্যা তথ্য বা অপতথ্য, প্রতিবেদনে উপস্থাপিত ভুল তথ্য মোকাবেলার জন্য আজকাল সত্য-যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশকে ত্বরান্বিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণটি ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই, এবং ভেরিফিকেশন কৌশল সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করবে।

জনাব এম এইচ মাসুম, ফেলো, এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম (এপিআরআইজিএফ) এপিআইজিএ ও মার্কেটিং প্রমোশন কোঅর্ডিনেটর ফাইবার এট হোম লিমিটেড, ইন্টারনেট কর্পোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইসিএএনএন) এবং ডোমেইন নেম সিস্টেম (ডিএনএস) ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটার (ইউআরএল) শীর্ষ লেভেল ডোমেইন (টিএলডি) ইন্টারনেট অ্যাসাইনড নাম্বারস অথরিটি (আইএএনএ) এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টার (এপিনিক) জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইন (জিটিএলডি) এবং অংশগ্রহণমূলক আলোচনায় বিষয়গুরৈা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মিডিয়া ইন দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভোলিউশন এর পলিসি রিসার্চ ফেলো জনাব এ এইচ এম বজলুর রহমান, জাতিসংঘের তথ্য ও সমাজ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন এর অ্যাকশন লাইনস, ইন্টারনেট গভর্নেন্স এবং মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮, জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতি, ২০১৭, এবং জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে, নীতি নির্ধারকদের প্রভাবিত করে এবং প্রযুক্তির দ্রæত পরিবর্তন এবং অভিযোজন করে ডিজিটাল বিভাজন হ্রাস করার জন্য কণ্ঠকে জোরালো করার জন্য আহবান জানান। তিনি বলেন, বিআইজিএফ জ্ঞান সৃষ্টি, জ্ঞান সংরক্ষণ, জ্ঞান প্রচারের জন্য সরকার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে সরকারের সাথে কাজ করছে। ডিজিটাল সমাজের সাথে অভিযোজনের জন্য তরুণদের ক্ষমতায়ন, সম্প্রসারণ এবং ক্ষমতাশীলদের প্রভাবিত করার জন্য কাজ করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাসরত সংযোগহীন মানুষদের ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আসা উচিত।

বাংলাভিশন এর সিনিয়র নিউজ এডিটর, জনাব আবু রুশদ মোঃ রুহুল আমিন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং ভেরিফিকেশন টেকনিক নিয়ে আলোচনা করেন। তথ্য, সংবাদ, উৎস এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলি সুরক্ষিত করার সর্বোত্তম অনুশীলনের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে নিরাপদভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য শীর্ষ ঝুঁকিগুলি কী, শীর্ষ ঝুঁকির সমাধান, নিরাপদ ইন্টারনেট ওয়েবসাইট ব্রাউজিং, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং ভেরিফিকেশন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এর সহকারি অধ্যাপক মিনহাজ উদ্দিন, রিপোর্টিংয়ে ভুল তথ্য, অপ তথ্য এবং বিকৃত তথ্য তথ্য নিয়ে আলোচনা করেন। ভুল তথ্য, ভুয়া খবর এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর শাস্তি বা পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করলে এগুলোর প্রবণতা কমবে। ৮ বিভাগের মোট ২৪ জন সাংবাদিক এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। আশা করা যায় যে কর্মশালাটি নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন তৈরির জন্য তথ্য যাচাই করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও পরিশ্রমী এবং সংবেদনশীল হতে সক্ষম করবে। এছাড়া, প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও কিভাবে ডিজিটাল হুমকি থেকে সাংবাদিকদের রক্ষা করা যায় সে ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা অন্যান্য আধুনিক কৌশল ব্যবহারে উৎসাহিত হবে। অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট বিতরণের পর প্রশিক্ষণ শেষ হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী অধিবেশন পরিচালনা করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মোঃ আব্দুস সালাম এবং মোঃ সোহেল পারভেজ।

বিআইজিএফ-এর সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মোহাম্মদ আবদুল হক অনু, উল্লেখ করেন, বিআইজিএফ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের (ইউএনআইজিএফ) সঙ্গে এক সাথে যাত্রা শুরু করে। বিআইজিএফ, ইন্টারনেট গভর্নেন্স নিয়ে কাজ করার জন্য একটি বহুমাত্রিক অংশীজনদের প্ল্যাটফর্ম। এর লক্ষ্য হল নতুন প্রজন্মকে ইন্টারনেট গভর্নেন্স ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য গঠনমূলক অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতায়নের জন্য অনুপ্রাণিত করা। বিআইজিএফ সরকারের সাথে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন সংলাপ, আলোচনা সভা আয়োজন করে ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারের সাথে কাজ করছে।

আপনি এগুলোও দেখতে পারেন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.