বন্দিবিনিময় ও আইনি সহায়তায় জোর ঢাকার

0

বিডি২৪ভিউজ ডেস্ক : আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পঞ্চম কৌশলগত সংলাপ। এতে অংশ নিতে প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি ফিলিপ বার্টনের। আসন্ন সংলাপে বন্দিবিনিময় এবং আইনি সহায়তায় মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সে (এমএলএ) জোর দেবে ঢাকা। আর নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ওপর জোর দেবে লন্ডন। যদি এ ক্ষেত্রে আলোচনা সফল হয় তাহলে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীনসহ অন্য পলাতকদের দেশে ফেরানো সহজ হবে।

গতকাল রোববার সেপ্টেম্বরে দু’দেশের মধ্যে পঞ্চম কৌশলগত সংলাপ নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে অংশগ্রহণ করেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দুই দেশের সংলাপটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, কিছু অপরাধী রয়েছেন যুক্তরাজ্যে অপরাধ করে বাংলাদেশে চলে আসেন। আবার কিছু অপরাধী রয়েছেন যারা বাংলাদেশ থেকে অপরাধ করে যুক্তরাজ্য গিয়ে বসবাস করছেন। দুই দেশই অপরাধীদের যাতে শাস্তি ও বিচারের আওতায় আনা যায় এ বিষয়ে আগেই একমত হয়েছিল। এ বিষয়টি আর এগোয়নি। এবার সংলাপে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, দক্ষ অভিবাসন, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশে সুযোগ দেওয়া এবং যৌথ সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের সফর বিনিময়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা, আঞ্চিলক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি নিয়ে আলাপ করবে দুই দেশ।

যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের এজেন্ডা এখনও চূড়ান্ত না হলেও আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়ে জোর থাকবে তাদের। বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। আর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এমন পরিবেশ চায় যাতে সব দল তাতে অংশ নিতে উৎসাহ বোধ করে– এমন অবস্থান তারা সরকারকে জানিয়ে আসছে।

এর আগে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুই দেশের চতুর্থ কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অপরাধীরা যাতে নিরাপদে থাকতে না পারে তা আইনি কাঠামোতে নিয়ে আসতে বন্দিবিনিময় ও এমএলএ বিষয়ে ওই বৈঠকেই একমত হয়েছিল দুই দেশ।

সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, অবৈধ অস্ত্র ও জাল টাকা রাখার মামলায় সাজা হওয়া সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল শহীদ উদ্দিন খানসহ বেশ কয়েকজন এ মুহূর্তে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে তাদের পলাতক দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চৌধুরী মঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্য অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ। পলাতক থাকায় তার দণ্ড কার্যকর হতে পারেনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিছু নাগরিক রয়েছেন, যারা সেখানে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে চালিয়ে যাচ্ছেন। বন্দিবিনিময় ও এমএলএ আইনি কাঠামোতে চলে এলে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীসহ অপপ্রচারকারীদের ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে। আর এটি বাস্তবায়ন করবে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, আসন্ন কৌশলগত সংলাপে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), রোহিঙ্গা সংকট, আগামী বছর দুই দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সংলাপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) ও সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ), নারীর ক্ষমতায়ন, অভিবাসন, উচ্চশিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক পরিবেশ, শ্রম অধিকার ও পরিস্থিতি, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল (আইপিএস), ইউক্রেন সংকট, শান্তিরক্ষায় সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের মতো বিষয়গুলোতে অলোচনা হবে। সেইসঙ্গে জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সুশীল সমাজের সংকুচিত স্থান, মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনায় আসবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.