বান্দরবানে রাতের আঁধারে জমি কাটার অভিযোগ শাহাজান মিয়ার বিরুদ্ধে
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ, নিজস্ব প্রতিনিধি বান্দরবান : বান্দরবান জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন একটি সুইচ গেইড নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজের শুরু থেকেই নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—জমির মালিকের কোনো অনুমতি না নিয়েই রাতের অন্ধকারে রেইচার আহমেদ হোসেন মেম্বার-এর মালিকানাধীন জমি কেটে ফেলা হয়। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন তার ওয়ারিশগণ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই রাতের আঁধারে মাঠি কেটে তা বিক্রি করা হয়েছে , যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে।
ঘটনা প্রসঙ্গে ঠিকাদার শাহাজান মিয়া-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, তার অজান্তেই নাকি তার স্কেলাভেটর দিয়ে ভুলবশত মাটি কাটা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—ঠিকাদারের অনুমতি ছাড়া তার ভারী যন্ত্র কীভাবে রাতের বেলায় চালানো হয়? বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেওয়ার পর থেকে তিনি আর ফোন ধরছেন না, যা তার বক্তব্যকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, জমির মালিকের অনুমতি ছাড়া কাজ করা এবং মাটি কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে দায় এড়িয়ে তিনি বলেন, এটি তাদের বিষয় নয় এবং ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ন্যায়বিচার পেতে ভুক্তভোগীরা গত ২৩ ডিসেম্বর বান্দরবান জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) অফিসে গিয়ে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (এক্সইএন) অনুপম সিকদার-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার শাহাজান মিয়া প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রশাসনের নিরব ভূমিকা তাকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে। দ্রুত তদন্ত করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।