স্থানীয় গণমাধ্যম পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা
নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর উদ্যোগে ‘প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি): প্রতিরোধ ও করণীয়’ শীর্ষক স্থানীয় গণমাধ্যম পেশাজীবীদের দিনব্যাপী এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে । বরিশাল সদর রোডের বিডিএস মিলনায়তনে আয়োজিত এই কর্মশালায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন ।
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন স্পিড ট্রাস্ট, বরিশালের মিশন হেড জনাব এএইচএম শামসুল ইসলাম দীপু এবং সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ম্যাপ বরিশালের নির্বাহী পরিচালক জনাব শুভঙ্কর চক্রবর্তী। কর্মশালার মূল প্রবন্ধও পাঠ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আহসান হাবিব । উল্লেখ্য, বিএনএনআরসি ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালা আয়োজন করেছে। প্রকল্পটি ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ কর্মসূচির অংশ, যা সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোগীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে ।
কর্মশালায় প্যানেল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন এস এম আমজাদ হোসেন, আজাদ আলাউদ্দিন, কমল সেনগুপ্ত, সুমন চৌধুরী, সাইদুর রহমান পান্থ, খালিদ সাইফুল্লাহ, জিয়া শাহিন, প্রাচুর্য রানা, খান রফিক, মর্জিনা বেগম এবং মোঃ হুমায়ুন কবির। এছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাজিব দাস, মুরাদ আহমেদ, বিধান সরকার, জসিম আহমেদ ও মেহেদি হাসান ।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে জনাব এএইচএম শামসুল ইসলাম দীপু কর্মশালার লক্ষ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে আলোকপাত করেন। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার ধরন, প্রভাব এবং এর প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করা ।
বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে অনলাইনে বিশেষ করে নারীদের ওপর সহিংসতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী বিভিন্নভাবে ডিজিটাল হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি ।
আলোচকবৃন্দ ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট এবং টিএফজিবিভি বিষয়ে জনসচেতনতায় জোর দেন এবং সরকারের কার্যকর উদ্যোগ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন হেল্পলাইন (০১৩২০০০০৮৮৮) ও ইমেইল ([email protected]) সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা সচেতনতার মাধ্যমে সহিংসতা কমানোর এবং একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি জনাব আহসান হাবিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাঁরা সমাজের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করেন, তাই ডিজিটাল জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে তাঁরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমাদের মূল জনশক্তির অর্ধেকই নারী, সুতরাং তাঁদেরকে ডিজিটালভাবে অগ্রগামী ও সচেতন করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। এতে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে”।
কর্মশালার ‘ডিপ ডাইভ’ সেশনে বক্তারা জেলা পর্যায়ে টিএফজিবিভি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও তা উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই সেশনটি সঞ্চালনা করেন জনাব পঙ্কজ রায় চৌধুরী।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং টিএফজিবিভি প্রতিরোধে তাদের পেশাগত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন । তারা স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।