প্রথম বিদেশ সফরে জার্মানি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

0

বিডি২৪ভিউজ ডেস্ক : বহুল আলোচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নতুন মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফরে বৃহস্পতিবার জার্মানি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঐতিহ্যবাহী মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সকে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মুখ্য উপলক্ষ হিসেবে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। আর এ জন্যই সম্মেলনে সরকার প্রধানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে।

সম্মেলনে নিরাপত্তা, জলবায়ুসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ তার অবস্থান তুলে ধরবে। সেই সঙ্গে মিউনিখে জড়ো হওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক বৈঠক-মতবিনিময় হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসন ও ডাচ্‌ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক চূড়ান্ত বলে দাবি করে সেগুনবাগিচা। এ ছাড়া সরকার প্রধানের সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং মেটা গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগের সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের একজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অ্যাপয়েনমেন্ট চেয়েছেন বলে জানা গেছে। ৩ দিনের সফরের বিদায়ী লগ্নে জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি কমিউনিটি ইভেন্টে বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

যেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা আমন্ত্রিত।

মিউনিখ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু তুলবে বাংলাদেশ: সেগুনবাগিচা জানিয়েছে, আসন্ন মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু বিশেষ করে জলবায়ু উদ্বাস্তুসহ এ সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো উত্থাপনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। মিউনিখে সরকার প্রধানের বক্তৃতা ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় বহু এনগেজমেন্ট রয়েছে। সেখানে বিষয়গুলো উত্থাপিত হবে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যাওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সচিব মাসুদ বিন মোমেনও সরকার প্রধানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিষয়গুলোতে জোর দিবেন বলে জানা গেছে। পৃথক আমন্ত্রণে পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক মিউনিখে যাচ্ছেন জানিয়ে সেগুনবাগিচা বলছে, মিউনিখে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ২৭ রাষ্ট্রের ওই জোট বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগীও। নতুন সরকার গঠনের পর ইউরোপে প্রধানমন্ত্রীর সফরটিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পেশাদাররা।

তাদের মতে, পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফর না হলেও মিউনিখ তথা প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি যাত্রার মাধ্যমে ইউরোপকে বাংলাদেশ কতোটা গুরুত্ব দিচ্ছে সেটার আরেক দফা প্রদর্শনী হচ্ছে। উল্লেখ্য, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন ফর্মেটে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পুনঃনির্বাচিত নেতৃত্বের আলোচনা-মতবিনিময়ের সুযোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনি এগুলোও দেখতে পারেন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.