জিউসের পুত্র নই । মুহম্মদ নূরুল হুদা

জিউসের পুত্র নই
মুহম্মদ নূরুল হুদা
জিউসের পুত্র নই, নই জাগ্রিউস; তবু
ভোরের ঘুমের মধ্যে দেখে ফেলি হঠাৎ আমাকে।
দেখি হাড়মাংসস্নায়ুময় তরতাজা আমার শরীর।
মনে হয়, কখনো দেখিনি আমি আমার আমাকে।
কে এই অচেনা অঙ্গ, কার পুত্র কার বা নির্মাণ!
আমি কি খুলতে পারি নিজেই আমাকে?
খুলে ফেলে আবার কি জোড়া দিতে পারি এ প্রত্যঙ্গ?
দশদিক থেকে আলোর বল্লম হাতে
আমাকেই তাক করে ছুটে আসে কারা, ওরা কারা?
তন্দ্রার ভিতর আমি পেয়ে যাই অন্য এক
যাদুর দর্পন, পেয়ে যাই পশমের গোছা,
বাঘ আর বৃষের শরীর, সরীসৃপ, গোলাকার
ফল থেকে নিত্যবিবর্তিত অজস্র স্বরূপ।
আক্রমণকারী আসে তাক করে অজস্র অস্ত্রের বাণ।
আমি মুহূর্মুহু বদলে ফেলি আমার সুরত।
পশুর চামড়া গায়ে ছদ্মবেশ ধরি আমি আদি জিউসের।
অনন্তর ঘাতকেরা আমাকে দখল করে,
আমি বিবর্তিত বৃষের শরীর।
আমার শিঙের বাট ধরে তারা কব্জা করে আমার আকার।
আমি উল্টো-চিৎ কসাই-আহার।
হায়, জিউসপুত্রের প্রাণ যায়-যায়!
কে আমাকে পায়, ওরে কে আমাকে পায়?
অকস্মাৎ দেবী অ্যথিনির দয়া আমাকে বাঁচায়।
আমার হৃদয় আর হৃৎপিণ্ড হাতে নিয়ে
তাতে তিনি ফুঁকে দেন অনন্ত অমরা।
সেই থেকে চিরজীবিতের দলে আমি,
মরলোকে নর আমি নারী আমি, কখনো মরি না।
তবে
আমাকেই যুগে যুগে বিসর্জন দেয় সবে,
যে আমি অনন্তকাল বেঁচে থাকি
সতত বদল করে আমার সুরত।
অটুট আমার প্রাণ, আমার হৃদয়;
শুধু এই দেহ, সাকার আকার আমি
ধ্রুব নই; কখনো সে নয়।
অনন্তর তোমাকে পেলেই আমি
গ্রাস করি তোমার অধর।
এভাবেই তোমাতে অমর আমি,
তুমি হও আমাতে অমর।
ওরে, পরস্পর কবরেও অনন্তের ঘর।
জিউসের কেউ নই,
নই জাগ্রিউস।
আমরা অনন্তজীবী,
সতত বদল সত্তা,
আদিতে মানুষ।
২৫.১২.২০২০
মুহম্মদ নূরুল হুদা
Comments (0)
Add Comment