বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসা সেবা পৌঁছিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি : আব্দুল্লাহ আল সাঈদ : বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ বীর রুমা জোন এর উদ্যোগ ও সার্বিক তত্বাবধানে নেয়া হয়েছে কমিউনিটি নার্সিং ট্রেনিং এর মতো অনন্য এক মহতী উদ্যোগ।যা উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে রাখবে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা এমনটাই মনে করছে স্থানীয় রুমা উপজেলাবাসী।সোমবার (১৬ ই মার্চ) প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।প্রশিক্ষণটি রুমা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে গত ৩ মার্চ রোজ মঙ্গলবার শুরু হয়।একই স্থানে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোন এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার (এসবিপি,পিএসসি)।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি।এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে লুকিয়ে আছে দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং জনপদ। দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এই অঞ্চলগুলো সমতল ভূমির চেয়ে অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা তার মধ্যে অন্যতম বান্দরবানের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কিছু কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।দূর্গম এলাকা হওয়ায় এই স্বাস্থ্য সুবিধা সমূহ স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সবসময়ই হিমশিম খায়।দূর্গম এলাকাগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন।এই প্রেক্ষিতে,৩৬ বীর রুমা জোন এর তত্ত্বাবধানে রুমা উপজেলায় কমিউনিটি নার্সিং ট্রেনিং এর আয়োজন করা হয়।এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দূর্গম পাড়া গুলো হতে বাছাইকৃত পাড়াবাসীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উপরে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।বান্দরবান রিজিয়ন এর সার্বিক সহযোগিতায়
সুদৃঢ় ছত্রিশ এই স্লোগান কে সামনে রেখে ট্রেনিং এর যাবতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে রুমা জোন।প্রশিক্ষণে প্রতিটি সদস্যকে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিভিন্ন বাস্তব সম্মত বিষয়ে প্রশিক্ষণে গুরুত্ব উল্লেখ করে জোন কমান্ডার আরও বলেন,আগামীতেও এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপঅধিনায়ক মেজর মাহফুজুর রহমান (পিএসসি),ক্যাপ্টেন আরাফ হাসান উদয়, রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. সোহাগ মিয়া সজীব,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।এসময় প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যাগ,সার্টিফিকেট এবং হ্যান্ডবুক ও বিভিন্ন ওষুধ বিতরণ করেন।দূর্গম বিভিন্ন পাড়া থেকে বাছাইকৃত পাড়াবাসীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উপরে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

প্রশিক্ষণে সর্বমোট ৬৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করে।প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ একটি করে ‘ফার্স্ট এইড ব্যাগ’ প্রদান করা হয়।এদিকে প্রশিক্ষনার্থীরা সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ কে স্বাগত জানিয়ে দুর্গম পাড়াগুলোতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা পালন করার প্রত্যয় জানিয়ে আয়োজক সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

bandarban armi news
Comments (0)
Add Comment