তিন দিনব্যাপী ১৬তম বার্ষিক বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম-২০২১ সমাপ্ত : ইন্টারনেট একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা সবার জন্য প্রয়োজন

0

নিজস্ব প্রতিনিধি : তিন দিনব্যাপী ১৬তম বার্ষিক বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম (বিআইজিএফ) ইন্টারনেট জগতের স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ঢাকার একটি হোটেলে প্রধান অতিথি হিসেবে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জনাব মোস্তফা জব্বার, মাননীয় মন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জনাব হাসানুল হক ইনু, এমপি, চেয়ারপারসন, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম এবং সভাপতি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম (বিআইজিএফ) জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের (ইউএনআইজিএফ) সাথে একত্রে কাজ করে। এটি একটি মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম যা ইন্টারনেট উন্নয়নে জন্য সরকারের সাথে অধিপরামর্শ ছাড়াও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। উদ্বোধনী অধিবেশনের মূল বিষয় ছিলো ইন্টারনেট ইউনাইটেড: এক্সেস টু মিনিংফুল কানেক্টিভিটি এবং সোশ্যাল ইনক্লুশন। মোহাম্মদ আবদুল হক অনু, সেক্রেটারি-জেনারেল, বিআইজিএফ-এর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বিগত বছরগুলিতে বিআইজিএফ-এর কিছু কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিআইজিএফ সকল স্টেকহোল্ডারদের বিশেষ করে যুবদর সংগঠিত করে ইন্টারনেট গভর্নেন্স ইস্যুতে, ডিজিটাল বিভাজন এবং বৈষম্য, গ্রামীণ যুবদর জন্য সংযোগের মাধ্যমে সংগঠিত করা, বেসরকারী খাত বা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই এবং বিশ্বস্ত ইন্টারনেট প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডঃ মোঃ রফিকুল মতিন বলেন ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য সরকারী উদ্যোগগুলিকে এগিয়ে নিতে আমরা বাংলাদেশে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে টেলিকমিউনিকেশন এবং আইসিটির ক্ষেত্রে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। কার্নিভাল ইন্টারনেট এর হেড অফ অপারেশনস জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে আমরা ডিজিটাল যুগে দেশব্যাপী একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য কাজ করছি।

আইসিটি ডিভিশনের ইনফো সরকার প্রকল্প (ফেজ-৩) এর উপ-প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার প্রণব কুমার সাহা বলেন সরকার গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট অ্যাক্সেস প্রদানের স্বপ্ন নিয়ে ১৩০৭ এবং ১২৯৩টি ইউনিয়নকে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় সংযুক্ত করার জন্য দুটি ভিন্ন প্যাকেজ গ্রহণ করা হয়েছে। এটি সমস্ত জেলা এবং ৪৮৮-উপজেলা স্তরে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এবং ব্যাকবোন নেটওয়ার্কের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে।

দৈনিক সমকাল এর বিশেষ প্রতিনিধি এবং টেলিকম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব রাশেদ মেহেদি বলেন, সকলের জন্য অর্থপূর্ণভাবে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ডিজিটাল সাক্ষরতার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট এবং এর সুবিধাগুলোতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

ইঞ্জি. মোঃ সাফায়েত হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক এবং প্রধান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সিটি ইউনিভার্সিটি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংযোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন। জনাব ফখরুদ্দিন আহমেদ, কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার (বাংলাদেশ) সিসকো টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেড বলেন, সিসকো নেটওয়ার্কিং-এ বিশ্বব্যাপী কাজ করছে যা ডিজিটাল বিশ্বের মাধ্যমে মানুষ কীভাবে সংযোগ, যোগাযোগ এবং সহযোগিতা করে তা পরিবর্তন নয়ে কাজ করছে।

বিএনএনআরসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জনাব এ এইচ এম বজলুর রহমান ১৬তম ইউএন আইজিএফ এবং ডিজিটাল সহযোগিতার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের রোড ম্যাপ সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন ডিজিটাল প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিভাজনগুলো দূর করা জন্য কাজ করতে হবে। এই প্রযুক্তিগুলির দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে যাতে আমরা সুবিধাগুলি সবার জন্য নিশ্চিত করতে পারি এবং অনিচ্ছাকৃত ফলাফল এবং ক্ষতিকারক বিষয়গুলোর ব্যবহার কমাতে পারি।

জনাব তাইমুর রহমান, চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার বলেন, বাংলালিংক দেশের দ্রুততম ইন্টারনেটের সাথে উচ্চতর ডেটা স্থানান্তর হার অফার করছে, এখন আপনাদের সমস্ত ডেটা আগের চেয়ে দ্রæত আপলোড এবং স্থানান্তর করার সহজ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া আর্টিকেল ১৯ এর আঞ্চলিক পরিচালক জনাব ফারুক ফয়সাল বলেন যে আমাদের মিডিয়া থেকে ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার বন্ধ এবং প্রতিরোধের উপর জোর দেওয়া উচিত। ডিজিটাল বিভাজন কমানোর জন্য ডিজিটাল সাক্ষরতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ নাসিম পারভেজ, এনডিসি, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) উল্লেখ করেন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের সর্বোচ্চ শুল্ক নির্ধারণের মতো কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। “এক দেশ এক রেইট” নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিটিআরসি স্থানীয় পর্যায়ে আইএসপির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কাজ চলছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এর মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন ডিজিটাল বিভাজন দূর করার জন্য সরকারের গৃহীত সকল উদ্যোগের ওপর আলোচনা করেন। কাউকে পেছনে না ফেলে রেখে শহরের সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ এই উদ্যোগের অধীনে, রাস্তা সংযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ড্রেনেজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো অনেকগুলি লক্ষ্য স্থাপন করা হয়েছে। শহরের সুযোগ-সুবিধা গ্রামে সম্প্রসারণ করা হলে এবং গ্রামীণ যুবক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হলে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রামীণ এলাকার মানুষ সমানভাবে মৌলিক সরকারি সুবিধা পেতে পারে।

জনাব হাসানুল হক ইনু, এমপি, চেয়ারপারসন, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম এবং সভাপতি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বলেন, আমাদের একটি ডিজিটাল টেকসই পরিকল্পনা দরকার। নতুন ব্যবস্থা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সকলের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ এবং অর্থনীতি গড়তে তোলার জন্য, ইন্টারনেটকে সাইবার নিরাপত্তা বিধান হতে হবে, ডিজিটাল বাজারে উদ্যোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য মানবাধিকার একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে নিশ্চিত করতে হবে। মৌলিক অধিকার হিসেবে ইন্টারনেটের স্বীকৃতি; মৌলিক অধিকার হিসেবে বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। জরুরি ভিত্তিতে সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চ-গতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা। মিসেস তামান্না মৌ, ফেলো, বাংলাদেশ স্কুল অফ ইন্টারনেট গভর্নেন্স সেশনটি সঞ্চালনা করেন।

দ্বিতীয় দিনে ইন্টারনেট গভর্নেন্স কাকে বলে এর ওপর একটি ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জনাব সমীরণ গুপ্ত, হেড ইন ইন্ডিয়া, ইন্টারনেট কর্পোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইসিএএনএন), মিসেস শায়লা শারমিন, সিস্টেম সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট, ইনফরমেশন সিকিউরিটি, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, বোর্ড মেম্বার, ইন্টারনেট সোসাইটি (আইএসওসি) আলোচনার প্রথম অধিবেশনে অংশ নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল হক অনু সেশনটি সঞ্চালনা করেন।

দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে, ইনট্রোস্পেকটিভ অফ সাইবার থেট ইন এন ইভলভিং টেকনোলজি ল্যান্ডস্কেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়, জনাব সাইফ রহমান, সিইও, ভেস্টর লিমিটেড, মিসেস আফিফা আব্বাস, সাইবার সিকিউরিটি চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ার, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড। জনাব ইকবাল আহমেদ, ফেলো, বাংলাদেশ স্কুল অফ ইন্টারনেট গভর্নেন্স এবং জনাব তাওহিদুর রহমান, সিনিয়র টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট (ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি), ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি-এনসিআইআরটি, বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম বাংলাদেশের সদস্য সচিব জনাব ফয়সাল আহমেদ ভুবন অধিবেশনটি পরিচালনা করেন। সমাপনী সেশনে ইন্টারনেট গভর্নেন্স, প্রসপেক্ট এবং ফেলোশিপ এর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। শ্রীদীপ রায়ামাঝি, সেক্রেটারি, এশিয়া প্যাসিফিক স্কুল অন ইন্টারনেট গভর্নেন্স এবং প্রতিষ্ঠাতা, ইন্টারনেট গভর্নেন্স নেপাল, শ্রীলঙ্কার সেন্ট্রাল প্রদেশের মিডিয়া সেক্রেটারি জনাব মাহি কিরিন্দিগোদা, চেয়ারপারসন আইজিএফ শ্রীলঙ্কা, মিসেস রিলা গুসেলা সুমিশ্র, ইন্দোনেশিয়া, ফেলো আলোচনায় অংশ নেন এশিয়া প্যাসিফিক স্কুল অন ইন্টারনেট গভর্নেন্স, ডক্টর জ্ঞানজয়রামন রাজারাম, অধ্যাপক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, এসবিএম কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, ডিন্ডিগুল, তামিলনাড়–, ভারত। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মোহাম্মদ আবদুল হক অনু অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।

সমাপনী দিনে ৩১শে ডিসেম্বর ৫টি সেশনের আয়োজন করা হয় সিরডাপ অডিটোরিয়ামে। অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)-এর কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান জনাব আবদুল্লাহ আল মামুন সঞ্চালনায় ইন্টারনেট গভর্নেন্স অ্যান্ড টেলিমেডিসিন বিষয়ক প্রথম সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। ডাঃ লুবনা মরিয়ম, এমবিবিএস, এম.ফিল, এফসিপিএস, সহকারী অধ্যাপক, বাংলাদেশ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট টেলিমেসিনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। জনাব আতাউর রহমান কাবুল, দৈনিক কালের কণ্ঠের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান কোভিডকালীন সময়ে কিভাবে টেলিমেডিসিন আমাদের সহযোগিতা করেছে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। কোভিড গবেষক, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ জনাব মোঃ সালেহ উদ্দিন মাহমুদ আলোচনায় অংশ নেন এবং তিনি কোভিডকালীন সময়ে প্রায় ৭ হাজার রোগীকে সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁর অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

দ্বিতীয় সেশনে শিশু আইজএফ অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিং এ সেফার এন্ড টোর ইন্টারনেট ফর কিডস। আয়েশা লাবিবা, সেশনটি সঞ্চালনা করেন তিনি শিশুদের অধিকার সুরক্ষার জন্য ৫টি বিষয়ের উপর জোর দেন। ঋতুরাজ ভৌমিক বলেন, আমাদের জানা দরকার ইন্টারনেটে কী করতে হবে, কখন কী করবেন, কী করবেন না, সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও সময় জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। জারতাজ হক সিমরা উল্লেখ করেন ইন্টারনেট কী? আমাদের জানা দরকার কিভাবে এটি ব্যবহার করতে হয়, কেন এটি ব্যবহার করতে হয়, সামারাহ আরিশা হোসেন বলেন, আমাদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নে ফোকাস করতে হবে, ঘরে বসে কাজ করতে হবে, ঘরে বসে শিখতে হবে যা ইতিমধ্যে চলছে। সামিন ইয়াসির বলেন, ইন্টারনেট বিপ্লব আমাদের জীবনযাত্রাকে বদলে দিয়েছে।

যেহেতু ইন্টারনেট বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই ঘৃণাসৃষ্টিকারী বক্তব্য, সাইবার বুলিং এর মতো বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে এবং এটি যাতে না ঘটে তার জন্য বিভিন্ন সরকারী সংস্থা কাজ করছে। ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদানের পাশাপাশি আমাদেরকে সচেতন হতে হবে খন্দকার আয়েশা শাহরিয়ার বলেন, শিশুদের ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারে মনোযোগ দিতে হবে, মেহজাবিন হক দিবা বলেন, কীভাবে ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করেছে, কোভিডের মতো আমরা বিভিন্ন অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারি। তানজিলুল হক ইন্টারনেটের প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জনাব তরিকুল ইসলাম শিশুর অধিকার সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন, শিশুর প্রধান অধিকার হচ্ছে শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং শিশু অধিকার ও অন্যান্য বিষয়ে তার বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেন।

উইমেন আইজিএফ: নারীর অর্থপূর্ণ ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষমতা তৈরিতে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো উত্তরণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। মিসেস আচিয়া নিলা, প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও, উইমেন ইন ডিজিটাল বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং পুরুষ ও মহিলাদের অনুপাত সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করে বলেন বাংলাদেশেও ইন্টারনেট ব্যবহারে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিশাল ব্যবধান কমাতে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মিসেস তামান্না মৌ, ফেলো, বাংলাদেশ স্কুল অফ ইন্টারনেট গভর্নেন্স নারীর উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ইন্টারনেটের অর্থবহ ব্যবহারের উপর জোর দেন। মিসেস নাজনীন নাহার, সম্পাদক ও প্রকাশক, মাসিক টেক ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ইন্টারনেট ব্যবহারের কিছু প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে নারীদের প্রতি সব ধরনের সাইবার বুলিং এবং হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানান। গ্রামীণ ফোনের ডেপুটি ডিরেক্টর মিস শায়লা রহমান লিমা শহর ও গ্রামাঞ্চলের নারীদের ক্ষমতায়নে ইন্টারনেটে ব্যবহারের কিছু ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। ইমপ্রুভিং ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস শামীমা আক্তার বলেন, ইন্টারনেটের অর্থবহ ব্যবহারের জন্য আমাদের আরও কাজ করতে হবে যা নারীর ক্ষমতায়নে সাহায্য করবে। নারীরা ই-কমার্সের সাথে জড়িত কিন্তু নারীদের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করার জন্য গ্রাম ও শহরে সাশ্রয়ী ও দ্রুত গতির ইনটারনেট প্রয়োজন।

সম্মানিত অতিথি মিসেস আফরোজা হক, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, শম কমিউনিকেশনস লিমিটেড বলেন, পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রয়াসহসহ ধাপে ধাপে নারীদের অর্থপূর্ণ সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইন্টারনেট এর অর্থপূর্ণ ব্যবহার এবং অন্যান্য ক্ষমতায়ন-সম্পর্কিত বিষয়গুলিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে আমাদের জাতীয় সংসদে বিষযগুলি উত্থাপন করতে হবে এবং মাননীয় সংসদ সদস্যদের সংগঠিত করতে হবে। সেশনটি পরিচালনা করেন উইমেন ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের আহ্বায়ক মিসেস ফারহা মাহমুদ ত্রিনা।
ই-কমার্স এবং ক্রস-বর্ডার ডেটা ফ্লো সেশনে জনাব মোঃ ইফতেখার আলম ইসহাক, ডেপুটি চিফ টেকনিক্যাল অফিসার, এসএসএল ওয়্যারলেস ই-কমার্সের বিকাশ এবং একটি নগদবিহীন সমাজ গঠনের উপায় এবং বিকাশ, নগদ, উপায়সহ ফিনটেকের ভূমিকা তুলে ধরেন। এই সংস্থাগুলি ই-কমার্সের প্রচারের জন্য আরো জোরালোভাবে কাজ করে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পাওে তিনি উল্লেখ করেন। জনাব রাকিবুল হাসান, আন্তর্জাতিক বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞ শিক্ষা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং বাংলাদেশে ই-কমার্স প্রচারের জন্য এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন, জনাব জিয়া আশরাফ, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) বাণিজ্যিক তথ্য এবং এর প্রবাহ নিয়ে আলোচনা করেন। তথ্যের প্রবাহ এবং অনলাইন ব্যবসার প্রচার এবং অন্যান্য বিষয়ে ই-ক্যাবের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। মিসেস সৈয়দা কামরুন জাহান রিপা, চেয়ারপারসন ইয়ুুথ আইজিএফ বাংলাদেশ সেশনটি সঞ্চালনা করেন।

ইমপ্লিমেন্টশন অফ দি রিকমেন্ডেশস অফ দি হাই লেভেল প্যানেল অন ডিজিটাল বাংলাদেশ শীর্ষক একটি সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মোহাম্মদ আবদুল হক অনু অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন। তিনি অধিবেশনে ২০২১ সালে সম্পাদিত বিআইজিএফ এর কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিএনএনআরসি এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জনাব এ এইচ এম বজলুর রহমান, জাতিসংঘ মহাসচিবের ডিজিটাল সহযোগিতার জন্য রোড ম্যাপ নিয়ে আলোচনা করেন, জনাব রাকিবুল হাসান, সাবেক সামরিক স্টাফ অফিসার (বেসামরিক-সামরিক সমন্বয়), উল্লেখ করে শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল যুগে শিক্ষা হল মূল বিষয় এর মাধ্যমেই ডিজিটাল সাক্ষরতা অর্জন করতে হবে। মালালা ফান্ড, বাংলাদেশ এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জনাব মোশাররফ তানসেন শিক্ষার উপর জোর দিয়ে বলেন শিক্ষাই নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করতে পারে। স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে সমাজ থেকে বৈষম্য রয়েছে তা কমাতে হবে।

ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ সরকারের নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব আনীর চৌধুরী, ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ার জন্য ডিজিটাল সমতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং টিসিভি (সময়, খরচ এবং পরিদর্শন) বিষয়ে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব হাসানুল হক ইনু, এমপি, বলেন সমতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিআইজিএফ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ডিজিটাল সমতার উপর একটি ডিজিটালাইজেশন রিপোর্ট তৈরি করবে। তিনি বলেন, মানবকেন্দ্রিক ইন্টারনেট সময়ের দাবি। এই বিষয়ে কিছু নীতি ও আইন প্রণয়ন করা জরুরি এই বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.