রাংগুনিয়ার শিক্ষাঙ্গনে অশুভ রাজনৈতিক চাপ: উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা শিক্ষক সমাজে

0

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাংগুনিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর অপচেষ্টা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

সম্প্রতি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করানোর লক্ষ্যে পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম টিপু, মরিয়ম নগর হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা, এবং কাউখালি আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ূব শিক্ষক সমাজের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন। উল্লেখ্য, এ তিনজনই ফ্যাসিস্ট  সরকারের সময়ে ফ্যাসিস্ট সভাপতির মাধ্যমে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

এই তিনজনের যোগ্যতা না থাকা সত্বেও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সভাপতিকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে আওয়ামী নেতার কোটায় নিয়োগ নিয়েছেন। আগেও সভাপতির অনুগত হয়ে দলবাজি করেছেন। এখনো দলবাজি করে নিজের অযোগ্যতাকে ধরে রেখে নিজেদের আখের গোছাতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার নীতিবান ও স্বাধীনচেতা শিক্ষকদের অভিযোগ, কোন শিক্ষক রাজনীতি করলে শিক্ষা কার্যক্রম শেষে রাজনীতি করতে পারেন। তবে, অন্যান্য সাধারণ শিক্ষকদের দলীয় কাজে ব্যবহার করতে বাধ্য করার কোন যুক্তি নেই। রাজনীতি ও দলবাজি নিতান্তই নিজের বিষয়। কারো উপর জোর করে চাপানো সভ্যতা নয়। রাঙ্গুনিয়ায় অতীতেও দলবাজি করা শিক্ষক ছিল, তবে এভাবে চাপিয়ে দেয়ার মত ঘটনা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের  পক্ষে কাজ না করলে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ফোনে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপমানজনক কথা বলা এবং আগামী ১৭ নভেম্বরের একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে জোরপূর্বক উপস্থিতির জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মিটিং করতে বাধ্য করা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতির জন্য চাপ সৃষ্টি করা এবং জোর করে গাড়ি ভাড়ার নামে টাকা দিয়ে উপস্থিত করানোর ঘটনাও একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে। রাজনৈতিক সমাবেশে যাওয়ার জন্য গাড়ী ভাড়া শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের নাস্তার জন্য সর্বনিন্ম তিন হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন।

রাংগুনিয়ায় এর আগে কোনো রাজনৈতিক দল কখনো শিক্ষকদের ওপর এমন অশোভন হস্তক্ষেপ করেনি। রাংগুনিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টিপু, নুরুল হুদা ও আইয়ূব মাষ্টার রাজনৈতিক স্বার্থে জিম্মি করে রাখার চেষ্টা করছেন বলে শিক্ষক সমাজের অভিযোগ।

শিক্ষকরা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন; তাই নির্বাচনের আগে একটি দলের মনোনীত প্রার্থীর সাথে সাক্ষাৎ করা বা নির্বাচনী সমাবেশে যোগদানের বিষয়টিকে শিক্ষকগণ দুরভিসন্ধিমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন। শিক্ষক সমাজে আলোচনা চলছে যে, গুটি কয়েক প্রধান শিক্ষক নিজেদের বিএনপির নেতা হিসেবে প্রমাণের স্বার্থে এধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন।

এই তিন শিক্ষক নেতার মধ্যে দুইজন শিক্ষক নেতা যে দলীয় নেতার জন্য এখন মাঠে সরব হতে চাচ্ছেন, মাত্র কয়েকমাস আগেই এই নেতার বিরুদ্ধে কাজ করে এলাকায় ওই নেতার সম্মানহানি করেছেন বীরদর্পে। এসব অপকর্ম ঢাকতে এখন নিরীহ শিক্ষককে সভায় এনে নিজেদের পাপের কলংক মুছাতে চায়। এরমধ্যে একজন কথিত শিক্ষক নেতা প্রকাশ্যে এসব অপকর্ম করে নিজেকে বীর সাজানোর মত দুঃসাহস দেখিয়েছে। এই শিক্ষক নেতা বর্তমানে যে স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবে রয়েছেন, সেই স্কুলের বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের কোটি টাকা আত্মসাতের হিসাব গায়েব করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আর এসব দুর্নীতিবাজ তথাকথিত শিক্ষক নেতাদের অপকর্মের সহযোগী হিসাবে সরাসরি কাজ করছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা।

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই তিনজন কথিত শিক্ষক নেতা নিজের স্কুলের দায়িত্বপালন না করেই অন্যান্য স্কুল ভিজিট করে  এধরনের অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে। শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের সমাবেশে নেয়ার জন্য এই তিনজন কথিত নেতা যেভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রদান করছেন, এসব টাকার উৎস কোথা থেকে তা নিয়ে চলছে শিক্ষক সমাজে নানা গুঞ্জন। এই তিনজন শিক্ষকদের সমাবেশে উপস্থিত করে, একটি সুন্দর বাণিজ্য করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ লক্ষ টাকার উৎস তাহলে ঐ নেতার কি না তা নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন?

এভাবে চলতে থাকলে রাংগুনিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা বিপদের মুখে পড়বে। ভয় আর চাপের কারণে অনেক শিক্ষক মুখ খুলতে সাহস না পেলেও এধরনের কর্মকাণ্ডকে ঘৃণার চোখে দেখছেন। অনেক শিক্ষক/ শিক্ষিকা এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাংগুনিয়ার সাধারণ শিক্ষক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা উল্লিখিত দলবাজ শিক্ষকদের অনিয়ম, হুমকি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অবস্থান নিয়েছেন। শিক্ষকসমাজকে জিম্মি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নেওয়ার এই অপচেষ্টা রাংগুনিয়ার মানুষ ঘৃণা ও তীব্র নিন্দার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.