সাতক্ষীরায় টিএফজিবিভি প্রতিরোধে এনজিও ও সিএসওদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা

0

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ও অগ্রগতি সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, প্রশমন ও করণীয় এবং ডিজিটাল উন্নয়ন প্রচারণা সম্পর্কে স্থানীয় এনজিও ও সিএসওদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা।

কর্মশালায় সাতক্ষীরা জেলার ৩২জন এনজিও ও সিএসও প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার মাধ্যমে তাঁরা প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রশমন এবং ডিজিটাল উন্নয়নে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখবেন এবং সমাজকে সচেতন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, যা টিএফজিবিভি মোকাবিলার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল উন্নয়নকে এগিয়ে নেবেন।
কর্মশালার উদ্দেশ্য হল প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা- এর প্রেক্ষিত ধরন, প্রভাব এবং প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট, আইন ও নীতিমালা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে এনজিও ও সিএসও প্রতিনিধিদেও সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করা এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সহকর্মীদের মধ্যে টিএফজিবিভি প্রতিরোধ সম্পর্কিত জ্ঞান এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণে সচেষ্ট করা, ডিজিটাল উন্নয়ন ও টিএফজিবিভি প্রতিরোধ, প্রশমন ও করণীয় বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করা, যাতে তারা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন, অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নেটওয়ার্ক গঠনের মাধ্যমে অব্যাহত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে টিএফজিবিভি প্রতিরোধ ও প্রশমনে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের ভূমিকা ও করণীয় নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করা।
কর্মশালাটি বিএনএনআরসির ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পটি নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির অংশ। এটি বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা করছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ এবং অর্থায়ন করছে সুইজারল্যান্ড ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মো. আব্দুস সবুর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক, অগ্রগতি সংস্থা। তিনি কর্মশালার উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন ও বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি সাতক্ষীরার স্থানীয় চিত্র, অগ্রগতি ও নিয়ে কি করা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি): ধারণা, ধরন, নেতিবাচক প্রভাব, ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট ও এর ধারণা, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি কর্মশালার উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন। তিনি উপস্থাপনায় স্থানীয় এনজিও ও সিএসওদের মাঝে ডিজিটাল ডেভলপমেন্ট ও প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের করণীয় এবং সংবাদ প্রচারের জন্য তথ্য সংগ্রহের নতুন নতুন ক্ষেত্র ও অংশীজন নির্বাচনের ক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
টিএফজিবিভি নিয়ে সাতক্ষীরার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন অগ্রগতি সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান। তিনি আলোচনায় পরিবর্তনের জন্য আশাবাদ ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন, এব্ং সাতক্ষীরার জন্য সংক্ষিপ্ত নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরেন।
উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ১২জন ডেজিগনেটেড স্পিকার আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অনুষ্ঠানের এই পর্বটি পরিচালনা করেন বিএনএনআরসির ট্রাস্টি বোর্ড মেম্বার মো. জিয়াউল আহসান। অন্যান্য অংশগ্রহণকারীগণও মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা প্রযুক্তির মাধ্যমে সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য নিজ নিজ জায়গা থেকে বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম যেমন টিএফজিবিভি-র ধরন, প্রতিরোধ, প্রশমন ও করণীয় সম্পর্কে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়াও অংশগ্রহণকারীগণ টিএফজিবিভি প্রতিরোধে নতুন স্টেকহোল্ডার যেমন- বিভিন্ন আইএসপি প্রতিনিধি, আইনজীবী, বিকাশ, রকেট- এর বিভিন্ন এজেন্টদের বিষয়টি জানানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
কর্মশালার বিশেষ অতিথিবৃন্দ বলেন, টিএফজিবিভি নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। একটি বিপদ হয়ে গেলে, কিছু ঘটে গেলে তারপর আমরা প্রতিকার চাই, কিন্তু যে যার জায়গা থেকে আরেকটু সচেতন হলেই, কিছু উদ্যোগ নিলেই টিএফজিবিভির কারণসমেত উৎখাত করা সম্ভব। ভূলতথ্য, অপতথ্য কঠিন হাতে দমন এবং মিডিয়ার সক্রিয় ও সঠিক তথ্য প্রবাহের নিশ্চয়তাই পারে সত্যের জয় নিশ্চিত করতে। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য সকলকে যথাযথ সরকারী সহায়তা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
প্রধান অতিথি ছিলেন মিসেস নাজমুন নাহার, উপ-পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা, টিএফজিবিভির প্রতিকার চাইলে প্রথমেই নিজ নিজ পরিবারকে সচেতন করতে হবে, কারণ কেউ সহিংসতার শিকার হলে প্রথম বাধাটাই, প্রথম দোষারোপটাই আসে পরিবার থেকে। তাই সন্তানদের নৈতিক চর্চা, ডিজিটাল আচার আচরণ নিয়ে শিক্ষাটা প্রত্যেকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে প্রয়োজন গণমাধ্যমের ভূমিকা নিশ্চিত করা, যেন বার্তাগুলো পৌঁছায় সবার কাছে। সবার মাঝে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নেটওয়ার্ক গঠনের মাধ্যমে অব্যাহত সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে এনজিও ও সিএসও প্রতিনিধিদের টিএফজিবিভি-সম্পর্কিত বিষয়সমূহ চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ করার ওপর জোর দেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.