পাবনায় ডিস্ট্রিক হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সভা অনুষ্ঠিত
কামাল সিদ্দিকী,পাবনা: ডিফেন্ডিং হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স নেটওয়ার্ক (ডিএইচআরএনএস) প্রকল্পের ত্রৈমাসিক সভা মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় পাবনা জেলা হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিস (ডিএইচআরএমও) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাবনা ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স নেটওয়ার্কের জেলা কো-কনভেনর অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার জলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বাঁচতে চাই সমাজ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রব মন্টু।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিনিয়র সিভিল জজ মো. আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আইন আছে, তার প্রয়োগও রয়েছে। তবে আইনের সুফল পেতে সেবাগ্রহীতাকেও সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্যাতিত, অসহায় ও শোষিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিতে কাজ করছে। মানবাধিকার ও দেশের সংবিধানকে ধারণ করে সাংবিধানিক নিয়ম-নীতির আলোকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় ও বাঁচতে সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং প্রকল্পের চলমান কার্যক্রমের কী-নোট উপস্থাপন করেন ডিএইচআরএনএস প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট সুফিয়া হোসেন। মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন স্টাফ ল’ইয়ার অ্যাডভোকেট নাহিদ শামস।
এ সময় গত তিন মাসে পাবনা জেলার মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তভিত্তিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জেলা হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার কামাল আহমেদ সিদ্দিকী। প্রতিবেদনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মোট ৬৩টি ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন এবং ব্লাস্টের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষাবিদ ও কৃষিবিদ জাফর সাদেক, চাটমোহর প্রেসক্লাবের সভাপতি হেলালুর রহমান জুয়েল, সাংবাদিক তৌফিক হাসান, শহীদ আহমেদ রফিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলেনা খাতুন, ওয়াইডব্লিউসিএর হেনা গোস্বামী, দীপ্ত টেলিভিশনের পাবনা প্রতিনিধি আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী, পাবনা কলেজের প্রভাষক জেসমিন আরা, পড়শীর নির্বাহী পরিচালক মালা সরকার, প্রতীকের নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান, সুচীতার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন পারভীন, কেএমএসের নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা পারভীন, ওসিসি পাবনার আইন কর্মকর্তা শামীমা নাসরিন সোনিয়া, শিক্ষক আব্দুল কাদেরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
আলোচনা পর্বে তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি মিতুল অভিযোগ করে বলেন, জেলা সমাজসেবা ও শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য তালিকাভুক্ত করা হলেও এখনো কোনো প্রশিক্ষণ বা অনুদান প্রদান করা হয়নি। ফলে তদারকির অভাবে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ত্রৈমাসিক সভায় ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সদস্য, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিসহ মোট ৪৩ জন অংশগ্রহণ করেন।