উপজেলা পর্যায়ে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিনিধি : নারী ও শিশু ধর্ষণ, হত্যাসহ পাবনার চাটমোহরে ১২৬টি মামলা দায়ের
উপজেলা পর্যায়ে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী নেতৃত্বের বিকাশ, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও নাগরিক অংশ গ্রহণ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।
সংগঠনটি মনে করে, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম, যুব সমাজ এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য।
এমএসএফ জানায়, পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিয়ে, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুক সংক্রান্ত সহিংসতা এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর দীর্ঘ মেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়; এটিমানবাধিকার, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য ও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা।
তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
স্থানীয় কমিউনিটি, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং এমএসএফের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কার্যক্রমের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় নারী ও শিশুরা এখনো যৌন হয়রানি, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুক সংক্রান্ত নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এসব ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, সামাজিক সংলাপ, সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সহায়তা এবং কার্যকর সামাজিক সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই লক্ষ্য কে সামনে রেখে মানবাধিকার সংস্কৃতিফাউন্ডেশন (এমএসএফ)পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপের সহায়তায় পরিচালিত নাগরিকতা (Citizens’ Engagement Fund-CEF)কর্মসূচির আওতায়”এম পাওয়ারহার (EmpowerHer)”নামক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পটির স্থানীয় শরীক সংগঠন বাঁচতে চাই সমাজ উন্নয়ন সমিতি এই উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে নারী নেতৃত্বের বিকাশ, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা,সারভাইভারদের জন্য আইনি সহায়তা প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি, এবং নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারে ধারাবাহিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে প্রকল্পের আওতায় পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ হলো—
• মাসিকসভা ৬০টি
• জেন্ডারসমতা ও জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ক ওয়ার্কশপ :১টি
• ত্রৈমাসিকসভা :২টি
• লিগ্যালএইড কমিটির সভা :১১.টি
• ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কার্যক্রম : ১১টি
• লিটিগেশন সাপোর্ট : ৭টি
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী, পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে জেন্ডার সমতা, মানবাধিকার, আইনিসেবা, সামাজিক সংবেদনশীলতা এবং জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের বিকাশ, কমিউনিটির সংলাপ এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রবণতা শক্তিশালী হয়েছে।
পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় থানার তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে মোট মামলা-১২৬টি মামলা দায়ের হয়েছে।
এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা ২টি, ধর্ষণ মামলা ৩টি, হত্যা ৩টি, মাদক মামলা ২৪টি ও অন্যান্য মামলা ৯৪টিসহ ১২৬ টি মামলা দায়ের হয়েছে। এবং অন্যান্য নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত…..জন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্য আইনী সহায়তা পেয়েছে 375 RbGesAv‡e`bK‡iwQ‡jv 461 Rb, Pjgvbi‡q‡Q 75 wU|
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) মনেকরে, সামাজিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, নারী-পুরুষের সমতা এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এম পাওয়ারহার (EmpowerHer) প্রকল্পটি দেশের ৭টি জেলার ৬৭টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৫–২০২৭ মেয়াদে পরিচালিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নারী নেতৃত্বের বিকাশ, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, মানবাধিকার সুরক্ষা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংবেদনশীলতা জোরদার করা।
প্রকল্পটি জাতিসংঘের টেকসইউন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষকরে, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা (এসডিজি-৫), বৈষম্যহ্রাস (এসডিজি-১০) এবংশান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার (এসডিজি-১৬) লক্ষ্যে প্রকল্পটি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
জনগণের প্রতি আহ্বান
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—
•নারী ও শিশুদের প্রতি যে কোনো ধরনের সহিংসতা, বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।
•বাল্যবিয়ে, যৌনহয়রানি এবং জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা জানলে নীরব না থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করুন।
• ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আইনি সেবা পেতে সহযোগিতা করুন।
• স্থানীয় জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম, ইউনিয়ন কমিটি এবং কমিউনিটি উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুন।
•পরিবারে নারী-পুরুষের সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখুন।
•শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মানবাধিকার, সমতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ বিষয়ে সচেতন করে তুলুন।
•নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব শীল ভূমিকা পালন করুন।
জরুরি সহায়তা ও যোগাযোগ
•জাতীয়নারী ও শিশুনির্যাতন প্রতিরোধ হেল্পলাইন: ১০৯ (টোলফ্রি)
• জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯
• জেলা লিগ্যাল এইড অফিস
• সংশ্লিষ্ট থানা
• স্থানীয় জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম
• মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) একটি জাতীয় মানবাধিকার ভিত্তিক সংগঠন, যা মানবাধিকার সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার সংবেদনশীলতা, ন্যায় বিচার এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।