প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা থেকে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় বিএনএনআরসি-র জোরালো আহ্বান
নিজস্ব প্রতিনিধি : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হুমকির ধরন আধুনিক হচ্ছে, অথচ অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। মফস্বল ও রাজধানী—উভয় অঞ্চলের সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে হলে প্রতিটি হুমকির সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত, দ্রুত প্রতিকার এবং জেলাভিত্তিক সমান নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে।
২ নভেম্বর ২০২৬: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারহীনতা অবসান সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে
বাংলাদেশের কোনো জেলা শহরের সাংবাদিক যখন প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে রিপোর্ট করেন, তখন কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করে দেয় যে তাঁর পরবর্তী অনুসন্ধান আদৌ প্রকাশিত হবে কি না। এই সতর্কবার্তাগুলো যদি উপেক্ষা করা হয়, তবে ঐ সাংবাদিক ঝুঁকিতে থেকে যান এবং তাঁর সহকর্মীরা বোঝেন যে একটি কঠিন সত্য অনুসন্ধান করার অর্থ এমন মূল্য প্রদান, যা প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ তেমন কিছুই করবে না। পত্রিকা বন্ধ কিংবা সম্প্রচার স্তব্ধ হওয়ার অনেক আগেই জনগণ তথ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারহীনতা অবসান সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (BNNRC) বাংলাদেশের সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন সাংবাদিকদের সুরক্ষাকে একটি সুস্পষ্ট ও দৃশ্যমান পাবলিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করে, প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা থেকে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় প্রতিটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির জবাব দিতে হবে। প্রতিটি হামলার কার্যকর তদন্ত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব বা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান যা-ই হোক না কেন, অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট বিচারে মুখোমুখি করতে হবে।
ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মূল প্রতিপাদ্য ছিল, “হুমকির ধরণ পাল্টাচ্ছে, বিচারহীনতা বহাল থাকছে।” বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রের ব্যবহার সাংবাদিকদের হুমকি ও আক্রমণের ধরণ বদলে দিচ্ছে। তাই জবাবদিহিতাকেও সমান গতিতে এগিয়ে নিতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটানো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক কঠিন ও জরুরি পরীক্ষা এবং এটি বাকস্বাধীনতা ও তথ্য পাওয়ার অধিকারের অন্যতম পূর্বশর্ত। এর ফলাফল প্রত্যেক নাগরিককে প্রভাবিত করে, যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্বজুড়ে এর চিত্র অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডের বিচারে ব্যর্থতার হার ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউনেস্কো ২০১২ সালে এই পরিসংখ্যান শুরু করার পর থেকে এটাই প্রথম বৃদ্ধি। এছাড়া ইউনেস্কোর রেকর্ডে দুই বছরে ১৮৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১২৭ জনই সংঘাতপূর্ণ এলাকায়। ৮৬ শতাংশের এই হিসাবটি বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার সূচক, যা কেবল বাংলাদেশের একক তথ্য বা সকল ধরণের সহিংসতার হিসাব নয়।
জাতিসংঘের তথ্য মতে, ১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ১,৭০০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ইউনেস্কোর আঞ্চলিক হিসাব অনুযায়ী আরব দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আক্রমণের নতুন ধরণ এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে: ছয়টি যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল ড্রোন হামলাই ৫০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। অপরাধের প্রযুক্তি যেভাবে দ্রুত আধুনিক হচ্ছে, বিচারের ব্যবস্থা সেভাবে এগোতে পারছে না।
হত্যাকাণ্ড হলো একজন সাংবাদিককে স্তব্ধ করে দেওয়ার সবচেয়ে চরম পন্থা। তবে অপহরণ, নির্যাতন, অন্যায় আটক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমেও জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছানো বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া ‘স্ল্যাপ’ (SLAPP)-এর মতো নিপীড়নমূলক মামলার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের সম্পদ শেষ করে দেওয়া হয় এবং অনুসন্ধান বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়। এসব চাপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পতনকে আরও তরান্বিত করে। যখন অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তখন দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধের সংবাদগুলো বন্ধ হয়ে যায়, যা সমাজকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে।
বাংলাদেশের নিজস্ব বহু অসমাপ্ত বিচারিক মামলা রয়েছে। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি দম্পতি নিহত হওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মামলাটি এখনো অমীমাংসিত। পরিবারগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত ও দীর্ঘ বিলম্বের একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়ার অধিকার রাখে। কোনো পূর্বনির্ধারিত অনুমানের ওপর ভিত্তি না করে প্রমাণের ভিত্তিতেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হওয়া উচিত।
এই বিপদ কেবল সেসব সাংবাদিকদের ওপরই সীমাবদ্ধ নয় যাদের নাম জাতীয় গণমাধ্যমে আসে। ঢাকার বাইরের স্থানীয় প্রতিনিধি ও সম্পাদকদের হত্যাকাণ্ডের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যার অনেকগুলোরই আজ পর্যন্ত কোনো বিচার বা রায় হয়নি। সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (CPJ) সতর্ক করেছে যে, বাংলাদেশে অব্যাহত আক্রমণ, হুমকি এবং দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা সাংবাদিকদের মধ্যে ভয় ও আত্ম-নিয়ন্ত্রণ (self-censorship) তৈরি করছে। কেবল বার্ষিক দিবসে সংহতি প্রকাশ করলেই চলবে না, এর জন্য প্রয়োজন টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা একই সূত্রে গাঁথা। সরকারি খরচ, ভূমির বিরোধ, পরিবেশগত ক্ষতি কিংবা নাগরিক সুবিধার ওপর সাংবাদিকতা জনগণকে ক্ষমতাবানদের কাছে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করে দেয়। ঢাকার বাইরের জেলা প্রতিনিধি, ফ্রিল্যান্সার বা কমিউনিটি রেডিওর সাংবাদিকদের জন্য এই সুরক্ষা নিশ্চিত হতে হবে, যাতে সাহায্যের জন্য কোনো বড় সংবাদমাধ্যমের প্রভাবের ওপর নির্ভর করতে না হয়। একই সাথে নারী সাংবাদিক, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর সাংবাদিকদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করা আবশ্যক।
ডিজিটাল মাধ্যমের হুমকি বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ইউনেস্কো ও আইসিএফজে-এর ‘দ্য চিলিং’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জরিপ করা নারী সাংবাদিকদের ৭৩ শতাংশই কাজের সূত্রে অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাংলা ও আঞ্চলিক ভাষায় দেওয়া এসব হুমকি—যেমন যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য এবং ছবি বিকৃত করে নারীকে নীরব রাখার অপচেষ্টা প্রতিরোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিএনএনআরসি বাস্তবায়ন করছে ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) অ্যান্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির অধীনে। এতে অর্থায়ন করছে সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ।
BNNRC ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের জন্য ‘প্রযুক্তিভিত্তিক জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা’ (TFGBV) থেকে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা জোরদারের দাবি জানাচ্ছে। এই সুরক্ষায় যৌন হুমকি, সাইবার স্টকিং, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং এআই (AI) দিয়ে তৈরি বা বিকৃত ছবি ব্যবহার করে ভয় দেখানোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রযুক্তিগত জবাব থাকতে হবে। সাংবাদিকের ভৌগোলিক অবস্থান বা চাকরির পদের ওপর ভিত্তি করে এই সহায়তা আলাদা হওয়া উচিত নয়।
একটি বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপে অনলাইন ও মাঠপর্যায়ের সুরক্ষার মধ্যে যোগসূত্র থাকা উচিত। প্রমাণ সংরক্ষণ, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা এবং হুমকির দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থা রাখা দরকার। নিজ উৎস গোপন রেখে এবং কোনো ট্রমার মুখোমুখি না হয়ে সাংবাদিকরা যেন সহায়তার সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা চাই।
সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও বিচারহীনতা রোধে জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা (UN Plan of Action) একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। ২০১২ সালে গৃহীত এই পরিকল্পনা জাতিসংঘ, জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও সুশীল সমাজকে প্রতিরোধ, সুরক্ষা ও প্রসিকিউশনের কাজে একত্র করে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রায় ৫০টি দেশে জাতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
২০২২ সালে এই কর্মপরিকল্পনার ১০ বছর পূর্তিতে নতুন অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের উচিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তব ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এ/রেস/৬৮/১৬৩ প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে এই দিবসটি পালিত হয়। ২০১৩ সালের ২ নভেম্বর মালিতে দুজন ফরাসি সাংবাদিক নিহত হওয়ার স্মরণে এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়। এই প্রস্তাবনায় প্রতিরোধ, জবাবদিহিতা, ভুক্তভোগীদের উপযুক্ত প্রতিকার এবং একটি মুক্ত পরিবেশে কাজ করার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন-র সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও আহ্বান:
১. স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণের অনুসরণ: হত্যাকাণ্ড, শারীরিক হামলা ও গুরুতর হুমকির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও প্রযুক্তি প্রদান করতে হবে। আদেশদাতা, অর্থায়নকারী ও সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. সহিংসতা ঘটার আগেই প্রতিরোধ: জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে দ্রুত সাড়াদানকারী ব্যবস্থা বা হেল্পলাইন তৈরি করা, যাতে হুমকি পাওয়া মাত্রই জরুরি সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
৩. আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ: স্বাধীন সাংবাদিকতার কারণে যেসব সাংবাদিক হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন, সেগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রত্যাহার করতে হবে। অহেতুক আটক বন্ধ এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. প্রযুক্তিভিত্তিক জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (TFGBV) থেকে সুরক্ষা: নারী সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে করা সাইবার অ্যাটাক, যৌন হুমকি ও এআই দিয়ে তৈরি বিকৃত কনটেন্টের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা রক্ষা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
৫. সংবাদ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা: গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের স্টাফ ও ফ্রিল্যান্সারদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সমর্থন প্রদান করতে হবে। ৬. অগ্রগতি পরিমাপ ও তথ্যের স্বচ্ছতা: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে একটি জাতীয় বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করা এবং হুমকির তদন্তের অগ্রগতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নিয়মিত জনসমক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ করা।
আমাদের উদ্বেগ কেবল বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে সুরক্ষার অধিকারী।
আমরা সেসকল সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছি যারা হুমকির শিকার, অন্যায়ভাবে আটক, নির্বাসিত কিংবা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাদের সুরক্ষার অধিকার কোনো সরকার, বিরোধী দল বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মনযোগের ওপর নির্ভর করতে পারে না।
একজন সাংবাদিক সহায়তার জন্য আবেদন করার পর রাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিচ্ছে—সুরক্ষা মিলছে কি না, তদন্ত এগোচ্ছে কি না এবং বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না—তার ওপরই প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে। প্রতিটি জেলায় এই সাড়াদান সুনিশ্চিত করাই হলো বিচারহীনতার অবসানের আসল পথ। কারণ জনগণের সত্য জানার অধিকার এই সুরক্ষার ওপরই টিকে থাকে।