বান্দরবানে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে অবৈধ কাঠ পাচারের অভিযোগ!
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ নিজস্ব প্রতিনিধি বান্দরবান : বান্দরবানে জোত পারমিট (গাছ কাটার অনুমতি) এর অপব্যবহার করে অবৈধভাবে মূল্যবান বনজ কাঠ পাচারের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বান্দরবান জেলা বিএনপির এক সদস্যের সংশ্লিষ্টতায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে কাঠ সংগ্রহ ও পাচারের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সরওয়ার জামালের নেতৃত্বে সদর উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে গামারি, সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হচ্ছে। এসব কাঠ রাতের আঁধারে পৌর এলাকার বালাঘাটা হয়ে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে রেইছা ইউনিয়নের কয়েকটি ডিপোতে নেওয়া হয়। পরে ভিন্ন ব্যবসায়ীদের নামে ইস্যুকৃত জোত পারমিটের সিল ও নম্বর ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দৈনিক সাঙ্গু ও বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সাংবাদিকদের নজরে আসে গামারি কাঠ বোঝাই একটি মিনি ট্রাক। এ সময় চালকের কাছে কাঠ পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় বন বিভাগের অনুমতিপত্র বা জোত পারমিট দেখতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। চালক কাঠের মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং তার মুঠোফোন থেকেই সরওয়ার জামালের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।
ফোনালাপে সরওয়ার জামাল কাঠগুলোর বৈধ জোত পারমিট রয়েছে বলে দাবি করেন এবং তা প্রদর্শনের আশ্বাস দেন। তবে কাঠের বৈধতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি দুইদিন পর যোগাযোগ করবেন বলে জানান। নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রতিবেদকের সঙ্গে তার আর যোগাযোগ হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার রেইছা, গোয়ালিয়াখোলা, সুয়ালক, চিম্বুকসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ডিপোতে মজুদ করা হয়। পরে নামে–বেনামে ইস্যুকৃত জোত পারমিটের আড়ালে কাঠ পাচার করা হচ্ছে। যা বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত) বিভিন্ন ধারা ভঙ্গ করার মধ্যে পড়ে। এতে পাহাড়ি বনাঞ্চল দ্রুত উজাড় হয়ে পড়ছে বলে পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী—ধারা ২৬(১)(ক), (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা, ক্ষতিসাধন, বনজ সম্পদ অপসারণ বা পরিবহন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধারা ৪২ অনুযায়ী বনজ দ্রব্য অবৈধভাবে পরিবহন, মজুদ বা পাচারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও মালামাল জব্দসহ জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।