পটুয়াখালীতে প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবারদের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

0

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর উদ্যোগে আজ পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে ‘প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রশমনে, এবং ইতিবাচক ডিজিটাল আন্দোলন গড়ে তোলায় স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবারদের ভূমিকা বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বরিশালের স্থানীয় ইউটিউবার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং অনলাইন উদ্যোক্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। অবহিতকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন মা্হফুজা ইসলাম। সভার সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ। তিনি অবহিতকরণ সভায় প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার ধরন ও প্রভাব নিয়ে পটুয়াখালীর প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, আইসটি ও শিক্ষা। উল্লেখ্য, বিএনএনআরসি ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই অবহিতকরণ সভা আয়োজন করেছে। প্রকল্পটি ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ কর্মসূচির অংশ, যা সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অবহিতকরণ সভায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নিরাপদ, জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কন্টেন্ট তৈরির কৌশল এবং ফেসবুক ও ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইনসহ ডিজিটাল আচরণের নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ৩ জন প্যানেল স্পিকার আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ১৮জন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ডিজিনেটেড স্পিকার হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ।

আলোচনা শেষে উপস্থিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা একটি মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) প্রতিরোধ ও প্রশমনে তাঁদের নিজ নিজ প্ল্যাটফর্মে সচেতনতামূলক কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত
করেন।

সভার লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) প্রতিরোধে তথ্যবহুল ও সময়োপযোগী কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্বুদ্ধ করা। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের ইউএনএফপিএ
(UNFPA) রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে ৮৯ শতাংশ নারী ও কন্যা শিশু প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সহিংসতার শিকার হয়। পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (PCSW)-এর তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার ৮০৮ জন নারী সাইবার অপরাধের প্রতিকার
চেয়েছেন, যার মধ্যে ৪১ শতাংশই ‘ডক্সিং’-এর শিকার। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলোচকবৃন্দ ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট এবং টিএফজিবিভি বিষয়ে জনসচেতনতায় জোর দেন এবং পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন
(হেল্পলাইন ০১৩২০০০০৮৮৮, ইমেইল- [email protected]) সহ সরকারের অন্যান্য কার্যকর উদ্যোগ ও সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথি জনাব জনাব মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, (আইসিটি ও শিক্ষা) তাঁর বক্তব্যে বলেন, টিএফজিবিভি প্রতিরোধে সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। তিনি জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার নতুন রূপের জটিলতা এবং উত্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে কমিউনিটির
সদস্য এবং প্রশাসনের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্বের উপর জোর দেন। টিএফজিবিভি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য আমাদের সকলের নিজ নিজ ক্ষমতায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ও পরিবারে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা খুব জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। যা একটি নিরাপদ এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ক্ষেত্র তৈরি করবে”।

তিনি কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদেরকে আমাদের সহযোগিতা করা উচিত। বর্তমানে যারা কন্টেন্ট করেন তাদের মধ্যে অনেকে পজেটিভ ও নেগেটিভ কন্টেন্ট করেন। এ ক্ষেত্রে নেগেটিভ কন্টেন্ট পরিহার করতে হবে। পজিটিভ ও ভাল ভাল সচেতনতামূলক কন্টেন্ট করা দরকার। অনেক সাধারণ
মানুষ আছেন যারা ফেসবুকে না বুঝে খারাপ লিঙ্কে ক্লিক দিয়ে বিপদে পড়ে। এজন্য সচেতনতামূলক মিডিয়াত প্রচার করা উচিত। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মার্জিত ভাষা ব্যবহার করতে হবে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বেশি বেশি পড়াশুনা করতে হবে এবং জনগণের কল্যানে কন্টেন্ট
করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন।

পটুয়াখালী জেলার কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ে আয়োজিত এই অবহিতকরণ সভা শেষে উপস্থিত প্রত্যেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন, এবং ভবিষ্যতে তাদের কন্টেন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল উন্নয়ন প্রচারণা এবং টিএফজিবিভি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কন্টেন্ট তৈরি করে এবং নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.