বান্দরবানের থানচিতে প্রশাসনের নির্দেশে যে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার, ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূনরায় শুরু
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ, নিজস্ব প্রতিনিধি : বান্দরবানের থানচিতে প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই পরিবেশ অধিদপ্তরকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে ফের অবৈধ সেই ইটভাটার কার্যক্রম চালু করার অভিযোগ উঠেছে আনিছুর রহমান সুজন নামের ওই আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ফলে প্রকৃতিনির্ভর এই এলাকার জীবন-জীবিকা ও পরিবেশগত ভারসাম্য এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইটভাটার কার্যক্রম স্থানীভাবে বন্ধ না হলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধ ভাবে ইটভাটা চালু রাখায় আওয়ামীগ নেতা আনিছুর রহমান সুজনের (মেসার্স এস বিএম ব্রিকস) নামের ওই ড্রাম্প চিমনির ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ও করা হয়। তবে গত রবিবার বিকালে ইটভাটাটি প্রশাসন ভেঙে দিলেও রাতের মধ্যে পুনরায় ইটভাটাটিকে মেরামত করে ফের সকালে ফের চালু করেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এই অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে নির্বিচারে বনের কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব শুরু হয়েছে। তাতে একদিকে বন উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এছাড়া পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বৃষ্টির সময় মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফসলি জমি ও নদীভূমিতে পলি পড়ায় কৃষিকাজও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সরেজমিনে জানা যায়, থানচি সদরের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উষামং হেডম্যান পাড়া ও একটি বৌদ্ধ বিহারের ঘেঁষেই গড়ে ওঠা ইটভাটায় বিভিন্ন স্থান থেকে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করে ইট তৈরির কাজ চলছে। অন্যদিকে ইটভাটার দুইটি চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে বনাঞ্চলের কাঠ পুড়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াই সিং মারমা ও উবানু মারমা বলেন, দিনের বেলায় লোকচক্ষুর আড়ালে ইট তৈরির বিভিন্ন প্রস্তুতি চালানো হলেও রাতের আঁধারে পাহাড় থেকে মাটি ও বন থেকে কাঠ এনে ইটভাটায় মজুত করা হচ্ছে। কালো ধোঁয়ায় চারপাশের বাতাস দূষিত হচ্ছে। ফলে শিশু, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে ইটভাটা পরিচালনার বিষটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন থানচির ইটভাটাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হবে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, আবারও শিগগিরই থানচি ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।