সাতকানিয়া ঠাকুরদিঘী বাজার এর সামনের মহাসড়ক হতে ১৯৫০০ পিস ইয়াবা সহ চার জন মাদক ব্যবসায়ী আটক

0

মো:শিপন, জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান ; র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশে আইন-শৃংখলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাদকের বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র‍্যাব বদ্ধপরিকর।

এরই ধারাবাহিকতায় মাদক, অপহরণ, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ সমাজে বিরাজমান বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ আন্তরিকতার সহিত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৩ মে র‍্যাব-১৫, কক্সবাজার, সিপিসি-৩, বান্দরবান র‍্যাব ক্যাম্প এর একটি আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা মাদক কারবারী,১, জিয়াউর রহমান (৩৫), ২, মোঃ সাকের (২৮) ৩, আবু তয়ব (৩৫),৪ জাফর মিয়া (৪০) তাদের মাদকের একটি বিশাল চালান গোপনে কক্সবাজার জেলা থেকে যাত্রীবাহী বাসে চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহন করে নিয়ে যেতো। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাত ২০.০০ ঘটিকার সময় র‍্যাবের আভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার ঠাকুরদিঘী বাজার সংলগ্ন টাইম ক্যাফে রেস্টুরেন্ট এর সামনে মহাসড়কে কক্সাবাজার হতে চট্টগ্রামগামী হানিফ পরিবহনের লোকাল বাস হতে যাত্রী নামলে র‍্যাবের চৌকষ আভিযানিক দল সু-কৌশলে ০৪ জন কে সন্দেহ ভাজন হিসেবে সনাক্ত করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, তাদের পেটে ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক ইনভেস্টিগেশন ও পরবর্তী এক্স-রে রিপোর্ট পর্যালোচনা করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের পেট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট গুলো পায়ূপথে নির্গত মল থেকে উদ্ধার করা হয়।‌

রেব জানায়, তারা এই কাজের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত‌ ছিল।জিজ্ঞাসাবাদে তাদের থেকে জানা যায় এ ক্ষেত্রে অর্ধশতাধিক ইয়াবা ট্যাবলেট পলিথিনের কয়েকটি মোড়কে প্যাচিয়ে সর্বশেষ কসটেপ প্যাচিয়ে প্যাকেজিংটা করে। এই রকমভাবে এক একজন ছোট ছোট ইয়াবার পুটলিগুলো কলা, পাউরুটির মাধ্যমে মুখ দিয়ে পেটে প্রবেশ করে।যা তাদের পেটে জমা হয়। এইভাবে তারা ইয়াবাগুলো ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত পেটে বহন করতে পারে।

এই ইয়াবাগুলো পরবর্তীতে লোকাল বাস ও সিএনজি যোগে কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বহন করে তাদের কাংক্ষিত গন্তব্য স্থলে পৌছানোর পরে তারা মল ত্যাগের মাধ্যমে পায়ূপথে ইয়াবার পুটলি গুলো বের করে এর জন্য তারা সবজি দিয়ে পেটভরে ভাত খায় এবং সিরাপ সেবন করে। যা তাদের মল ত্যাগে ও ইয়াবা পুটলিগুলো বের করতে সহায়ক।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সাধারণ যাত্রী পরিবহনের আড়ালে এই বিশাল মাদকের চালানটি পাচার করছিল এবং প্রতিনিয়ত তারা এভাবে মাদক পাচার করে থাকে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মাদক কারবারিরা পেটের ভিতরে ইয়াবা ট্যাবলেট বহনকরে পরবর্তীতে পায়ূপথে মল ত্যাগের মাধ্যমে বের করে যা মাদক সেবীরা সেবন করছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কুরুচিপূর্ণ অপপ্রয়াস আমাদের রুচিশীল যুবসমাজ যেন এক সচেতনভাবে প্রতিহত করতে পারে।

আপনি এগুলোও দেখতে পারেন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না.